দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বেগবান করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও কসোভো। উভয় পক্ষই পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে কাজে লাগাতে একমত প্রকাশ করেছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা। এ সময় তারা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুমাত্রিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কসোভোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কসোভোকে বাংলাদেশ থেকে উচ্চমানের তৈরি পোশাক (আরএমজি), ওষুধ, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য, জাহাজ, পাট ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির আহ্বান জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, “বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোলিয়াম, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন মেগা খাতে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে।” এসব সম্ভাবনাময় খাতে কসোভোর উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অভিবাসন খাতে বিদ্যমান অপ্রয়োগকৃত সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন। তিনি কসোভোকে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়সই ৩৫ বছরের নিচে, যা বৈশ্বিক বাজারের জন্য দক্ষ জনশক্তির একটি অত্যন্ত টেকসই ও শক্তিশালী উৎস।
পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কসোভোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বৃদ্ধি, বৃত্তি (Scholarship) ও ফেলোশিপ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও ক্রীড়া খাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ (People-to-People Contact) বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
জবাবে কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কসোভো ভৌগোলিকভাবে ইউরোপ ও বলকান অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, শিক্ষার্থী বিনিময়, জনশক্তি উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রবীণদের সেবাদান, পেশাগত প্রশিক্ষণ, বেসরকারি খাতের সহযোগিতা এবং ব্যবসা-টু-ব্যবসা (B2B) যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-কসোভো যৌথ সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ বাংলাদেশ কসোভো সম্পর্ক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শামা ওবায়েদ ইসলাম, লুলজিম প্লানা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, জনশক্তি রপ্তানি, তৈরি পোশাক শিল্প, বলকান অঞ্চল, বিদেশি বিনিয়োগ, কসোভো দূতাবাস ঢাকা Bangladesh Kosovo Relations, Ministry of Foreign Affairs, Shama Obayed Islam, Lulzim Pllana, Bilateral Trade, Manpower Export, RMG Bangladesh, Balkan Region, Foreign Investment, Kosovo Embassy Dhaka

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বেগবান করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও কসোভো। উভয় পক্ষই পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে কাজে লাগাতে একমত প্রকাশ করেছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা। এ সময় তারা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুমাত্রিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কসোভোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কসোভোকে বাংলাদেশ থেকে উচ্চমানের তৈরি পোশাক (আরএমজি), ওষুধ, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য, জাহাজ, পাট ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির আহ্বান জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, “বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোলিয়াম, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন মেগা খাতে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে।” এসব সম্ভাবনাময় খাতে কসোভোর উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অভিবাসন খাতে বিদ্যমান অপ্রয়োগকৃত সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন। তিনি কসোভোকে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়সই ৩৫ বছরের নিচে, যা বৈশ্বিক বাজারের জন্য দক্ষ জনশক্তির একটি অত্যন্ত টেকসই ও শক্তিশালী উৎস।
পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কসোভোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বৃদ্ধি, বৃত্তি (Scholarship) ও ফেলোশিপ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও ক্রীড়া খাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ (People-to-People Contact) বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
জবাবে কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কসোভো ভৌগোলিকভাবে ইউরোপ ও বলকান অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, শিক্ষার্থী বিনিময়, জনশক্তি উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রবীণদের সেবাদান, পেশাগত প্রশিক্ষণ, বেসরকারি খাতের সহযোগিতা এবং ব্যবসা-টু-ব্যবসা (B2B) যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-কসোভো যৌথ সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন