হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় লাগা একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক তথ্য সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে যে কন্টেইনারটিতে আগুন লেগেছে, সেখানে থাকা পণ্যগুলো আজ ৭ জুন (রোববার) নিলামে তোলার কথা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নিলামের ঠিক আগের রাতে এমন অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ডিএইচএলের কর্মীসহ অন্তত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত কমিটি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটের কাছে কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় ডিএইচএলের একটি কন্টেইনারে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত ঘটনাস্থলটি সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার আওতার বাইরে থাকায় তদন্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কন্টেইনারের কাছাকাছি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং কিছু বিচ্ছিন্ন তার থাকলেও শর্ট সার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ডের সাধারণ কোনো লক্ষণ সেখানে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। ফলে আগুনের উৎস নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় ধূমপান নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে কয়েকটি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের মতে, সিগারেটের আগুন থেকে সূত্রপাত হলে তা ধীরে ধীরে ছড়ায়, কিন্তু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে এই আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
দূরবর্তী সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগুন লাগার সময় ঘটনাস্থলের ঠিক কাছেই ডিএইচএলের এক কর্মী অবস্থান করছিলেন এবং বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুন দেখা দেওয়ার পরও কিছু সময় তিনি সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং বেশ কিছুক্ষণ পর অন্যদের বিষয়টি জানান। তদন্তের অংশ হিসেবে তার এই ধীরগতির ও রহস্যময় আচরণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কন্টেইনারে কাপড়ের রোল, কাগজজাত পণ্য, রাবার ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান মালামাল সংরক্ষিত ছিল। এসব পণ্য আজ রোববার নিলামে ওঠার কথা ছিল।
একই প্রতিষ্ঠানের মালামাল সংরক্ষণ এলাকায় বারবার আগুন লাগার ঘটনায় বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ভুক্তভোগী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগের ঘটনার পরও অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, "আগুনের উৎস এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো মানবসৃষ্ট কারণ বা নাশকতার সম্ভাবনা রয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় লাগা একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক তথ্য সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে যে কন্টেইনারটিতে আগুন লেগেছে, সেখানে থাকা পণ্যগুলো আজ ৭ জুন (রোববার) নিলামে তোলার কথা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নিলামের ঠিক আগের রাতে এমন অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ডিএইচএলের কর্মীসহ অন্তত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত কমিটি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটের কাছে কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় ডিএইচএলের একটি কন্টেইনারে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত ঘটনাস্থলটি সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার আওতার বাইরে থাকায় তদন্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কন্টেইনারের কাছাকাছি একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং কিছু বিচ্ছিন্ন তার থাকলেও শর্ট সার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ডের সাধারণ কোনো লক্ষণ সেখানে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। ফলে আগুনের উৎস নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় ধূমপান নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে কয়েকটি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের মতে, সিগারেটের আগুন থেকে সূত্রপাত হলে তা ধীরে ধীরে ছড়ায়, কিন্তু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে এই আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
দূরবর্তী সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগুন লাগার সময় ঘটনাস্থলের ঠিক কাছেই ডিএইচএলের এক কর্মী অবস্থান করছিলেন এবং বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুন দেখা দেওয়ার পরও কিছু সময় তিনি সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং বেশ কিছুক্ষণ পর অন্যদের বিষয়টি জানান। তদন্তের অংশ হিসেবে তার এই ধীরগতির ও রহস্যময় আচরণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কন্টেইনারে কাপড়ের রোল, কাগজজাত পণ্য, রাবার ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান মালামাল সংরক্ষিত ছিল। এসব পণ্য আজ রোববার নিলামে ওঠার কথা ছিল।
একই প্রতিষ্ঠানের মালামাল সংরক্ষণ এলাকায় বারবার আগুন লাগার ঘটনায় বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ভুক্তভোগী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগের ঘটনার পরও অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, "আগুনের উৎস এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো মানবসৃষ্ট কারণ বা নাশকতার সম্ভাবনা রয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

আপনার মতামত লিখুন