নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল

টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

নতুন সরকারের ১০০ দিনের অপরাধ চিত্র নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেছেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত বিভিন্ন পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয় এবং তাদের নিজস্ব কোনো তদন্ত নেই।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

টিআইবির ১০০ দিনের অপরাধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,

"টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। প্রকৃত অপরাধচিত্র জানতে হলে পুলিশ বিভাগ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য দেখতে হবে। জেলা থেকে সংগৃহীত তথ্যই প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে।"

তিনি আরও যোগ করেন, টিআইবির রিপোর্ট মূলত সংবাদপত্রের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তারা নিজেরা মাঠপর্যায়ে কোনো ঘটনা তদন্ত করে না। প্রকৃত ঘটনা বিবেচনা না করে এমন প্রতিবেদন দেওয়া ঠিক নয়। তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রয়েছে এবং এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশে অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমর্যাদা কেমন, তা জনগণই বিবেচনা করবে। তবে তাদের নৈতিকভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনের শাসন বাস্তবায়নে কাজ করতে পারে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন,

"শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করেছি। পুলিশ কতটা জনবান্ধব হয়েছে, কতটা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে, তার স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এতে তারা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবে।"

অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে আর্থিক পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়। পুরস্কৃতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা ও প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুততম সময়ে ডিএনএ টেস্ট ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল।দৌলতদিয়া ঘাটে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরী হত্যাকাণ্ডের ক্লুলেস মামলার দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামি গ্রেপ্তার।

একটি মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা বর্তমানে মাত্র ছয় হাজার টাকা পান—এটি পর্যাপ্ত কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। তবে আমাদের জাতীয় সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করেই কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতে তদন্ত কাজের গতি ও মান বাড়াতে এই আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, টিআইবি প্রতিবেদন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, অপরাধের পরিসংখ্যান, পুলিশ পুরস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি Home Minister Salahuddin Ahmed, TIB Report, Transparency International Bangladesh, Ministry of Home Affairs, Bangladesh Police, Crime Statistics Bangladesh, Police Award, Law and Order Situation

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


টিআইবির প্রতিবেদন পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

নতুন সরকারের ১০০ দিনের অপরাধ চিত্র নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেছেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত বিভিন্ন পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয় এবং তাদের নিজস্ব কোনো তদন্ত নেই।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

টিআইবির ১০০ দিনের অপরাধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,

"টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। প্রকৃত অপরাধচিত্র জানতে হলে পুলিশ বিভাগ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য দেখতে হবে। জেলা থেকে সংগৃহীত তথ্যই প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে।"

তিনি আরও যোগ করেন, টিআইবির রিপোর্ট মূলত সংবাদপত্রের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তারা নিজেরা মাঠপর্যায়ে কোনো ঘটনা তদন্ত করে না। প্রকৃত ঘটনা বিবেচনা না করে এমন প্রতিবেদন দেওয়া ঠিক নয়। তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রয়েছে এবং এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশে অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমর্যাদা কেমন, তা জনগণই বিবেচনা করবে। তবে তাদের নৈতিকভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনের শাসন বাস্তবায়নে কাজ করতে পারে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন,

"শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করেছি। পুলিশ কতটা জনবান্ধব হয়েছে, কতটা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে, তার স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এতে তারা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবে।"

অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে আর্থিক পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়। পুরস্কৃতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা ও প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুততম সময়ে ডিএনএ টেস্ট ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল।দৌলতদিয়া ঘাটে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক কিশোরী হত্যাকাণ্ডের ক্লুলেস মামলার দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামি গ্রেপ্তার।

একটি মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা বর্তমানে মাত্র ছয় হাজার টাকা পান—এটি পর্যাপ্ত কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। তবে আমাদের জাতীয় সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করেই কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতে তদন্ত কাজের গতি ও মান বাড়াতে এই আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত