জাতীয় জীবনের মূল ভিত্তিপ্রস্তর হলো শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিনির্মাণের সুতিকাগার। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের প্রক্রিয়াটি কোনো সাধারণ রুটিনমাফিক প্রশাসনিক কাজ হতে পারে না। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সামান্য বিচ্যুতিও পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জনমনে গভীর অনাস্থা তৈরি করে।
সম্প্রতি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য নিয়োগ এবং পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের ঘটনাটি কেবল একটি প্রশাসনিক 'ভুল' নয়, বরং এটি আমলাতান্ত্রিক অবক্ষয় ও মেধার প্রতি রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডিএসইউ, সোমালিয়ার উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান।
একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদকে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে, দীর্ঘ ২৩ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেই প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নেয় এবং দাবি করে—ঘটনাটি 'অনবধানতাবশত' বা ভুলক্রমে ঘটেছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ড. আসিফ মিজান বলেন,
"রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরের একটি প্রজ্ঞাপন জারির পূর্বে নথিগুলো যেভাবে বহুস্তরীয় যাচাই-বাছাই ও স্ক্রুটিনির মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনে পৌঁছায়—সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বা শিক্ষকের নাম বদলে যাওয়ার মতো মৌলিক ভ্রান্তি কীভাবে সম্ভব? ২৩ দিন ধরে একটি প্রজ্ঞাপন বহাল থাকার পর কোনো বিশ্বাসযোগ্য ও আইনি ব্যাখ্যা ছাড়াই তা প্রত্যাহার করা কি কেবলই প্রশাসনিক অদক্ষতা, নাকি এর পেছনে স্বার্থান্বেষী মহলের অদৃশ্য রথচালনা কাজ করেছে?"
এই পুরো নাটকের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন একজন সম্মানিত অধ্যাপক ও গবেষক। একটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর তা আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করায় একঝটকায় সেই শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত সুনাম এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত অ্যাকাডেমিক আত্মসম্মান ধূলিসাৎ করা হয়েছে। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ একজন শিক্ষাবিদকে তীব্র মানসিক ট্রমা ও সামাজিক অপদস্থতার মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার অপূরণীয় ক্ষতির দায়ভার রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ফাইল একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর পেরিয়ে চূড়ান্ত রূপ নেয়। এতগুলো প্রাতিষ্ঠানিক ফিল্টার থাকার পরও যদি ২৩ দিন পর ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে আমাদের আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ভিত্তি কতটা নড়বড়ে তা স্পষ্ট। এই প্রাতিষ্ঠানিক কলঙ্ক মুছে ফেলতে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:
১. বিচার বিভাগীয় তদন্ত: সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সময়নির্ধারিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ২. জনসমক্ষে প্রতিবেদন: তদন্ত প্রতিবেদনটি কোনো গোপন দপ্তরে চেপে না রেখে সম্পূর্ণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ৩. দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: এই ঘটনার পেছনের কুশীলব, আমলা বা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৪. তথ্য অধিকারের প্রয়োগ: তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার তথ্য গোপনের চেষ্টা করা হলে, তা তথ্য অধিকার আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই ঘটনার আরেকটি দুঃখজনক অধ্যায় হলো দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের রহস্যজনক নীরবতা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও মেধার অধিকার রক্ষায় যাদের সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ হওয়ার কথা ছিল, তাদের এই আপাতঃনিস্পৃহতা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই নীরবতা বজায় রাখা প্রকারান্তরে সেই অন্যায়কে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ারই শামিল।
উপাচার্য পদের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি তাঁর মেধা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে সমাদৃত। তাঁর মতো একজন যোগ্য মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ দেশের সামগ্রিক মেধা চর্চার ওপর এক বড় আঘাত। এর ফলে তরুণ গবেষকেরা দেশীয় অ্যাকাডেমিকায় অবদান রাখতে উৎসাহ হারাবে এবং উচ্চশিক্ষা খাত মেধাশূন্য ও মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে।
ভবিষ্যতে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ৪টি বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি ফাইলের গতিবিধি ও পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের ডিজিটাল জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শতভাগ ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে উপাচার্য নিয়োগের জন্য একটি তিন স্তরের স্বাধীন সার্চ কমিটি গঠন করা।
উচ্চশিক্ষার স্বচ্ছতা, শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা তদারকির জন্য শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন মঞ্চ গঠন করা।
যে যোগ্য শিক্ষাবিদকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে এবং তাঁর যোগ্য মর্যাদায় তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের এই নাটকটি আমাদের ভঙ্গুর প্রশাসনিক নীতি, অস্বচ্ছ আমলাতন্ত্র এবং মেধার প্রতি রাষ্ট্রীয় অবহেলার চরম বহিঃপ্রকাশ। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকের সম্মান ফিরিয়ে না দিলে, 'ভাঙা আয়নায়' আমরা বারবার কেবল আমাদের জাতীয় অবক্ষয়ের কদর্য রূপটিই দেখতে বাধ্য হবো।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্য নিয়োগ বিতর্ক, প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, শিক্ষক লাঞ্ছনা, আমলাতান্ত্রিক অবক্ষয়, উচ্চশিক্ষা সংকট, ড. শেখ আসিফ এস মিজান, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা Jamalpur Science and Technology University, VC Appointment Controversy, Notification Withdrawal, Teacher Dignity, Bureaucratic Failure, Higher Education Crisis, Dr. Sheikh Asif S. Mizan, Bangladesh Education, Institutional Accountability

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
জাতীয় জীবনের মূল ভিত্তিপ্রস্তর হলো শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিনির্মাণের সুতিকাগার। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের প্রক্রিয়াটি কোনো সাধারণ রুটিনমাফিক প্রশাসনিক কাজ হতে পারে না। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সামান্য বিচ্যুতিও পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জনমনে গভীর অনাস্থা তৈরি করে।
সম্প্রতি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য নিয়োগ এবং পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের ঘটনাটি কেবল একটি প্রশাসনিক 'ভুল' নয়, বরং এটি আমলাতান্ত্রিক অবক্ষয় ও মেধার প্রতি রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডিএসইউ, সোমালিয়ার উপাচার্য ও বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান।
একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদকে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে, দীর্ঘ ২৩ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেই প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নেয় এবং দাবি করে—ঘটনাটি 'অনবধানতাবশত' বা ভুলক্রমে ঘটেছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ড. আসিফ মিজান বলেন,
"রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরের একটি প্রজ্ঞাপন জারির পূর্বে নথিগুলো যেভাবে বহুস্তরীয় যাচাই-বাছাই ও স্ক্রুটিনির মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনে পৌঁছায়—সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বা শিক্ষকের নাম বদলে যাওয়ার মতো মৌলিক ভ্রান্তি কীভাবে সম্ভব? ২৩ দিন ধরে একটি প্রজ্ঞাপন বহাল থাকার পর কোনো বিশ্বাসযোগ্য ও আইনি ব্যাখ্যা ছাড়াই তা প্রত্যাহার করা কি কেবলই প্রশাসনিক অদক্ষতা, নাকি এর পেছনে স্বার্থান্বেষী মহলের অদৃশ্য রথচালনা কাজ করেছে?"
এই পুরো নাটকের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন একজন সম্মানিত অধ্যাপক ও গবেষক। একটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর তা আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করায় একঝটকায় সেই শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত সুনাম এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত অ্যাকাডেমিক আত্মসম্মান ধূলিসাৎ করা হয়েছে। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ একজন শিক্ষাবিদকে তীব্র মানসিক ট্রমা ও সামাজিক অপদস্থতার মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার অপূরণীয় ক্ষতির দায়ভার রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ফাইল একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর পেরিয়ে চূড়ান্ত রূপ নেয়। এতগুলো প্রাতিষ্ঠানিক ফিল্টার থাকার পরও যদি ২৩ দিন পর ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে আমাদের আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ভিত্তি কতটা নড়বড়ে তা স্পষ্ট। এই প্রাতিষ্ঠানিক কলঙ্ক মুছে ফেলতে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:
১. বিচার বিভাগীয় তদন্ত: সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সময়নির্ধারিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ২. জনসমক্ষে প্রতিবেদন: তদন্ত প্রতিবেদনটি কোনো গোপন দপ্তরে চেপে না রেখে সম্পূর্ণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ৩. দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: এই ঘটনার পেছনের কুশীলব, আমলা বা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৪. তথ্য অধিকারের প্রয়োগ: তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার তথ্য গোপনের চেষ্টা করা হলে, তা তথ্য অধিকার আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই ঘটনার আরেকটি দুঃখজনক অধ্যায় হলো দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের রহস্যজনক নীরবতা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও মেধার অধিকার রক্ষায় যাদের সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ হওয়ার কথা ছিল, তাদের এই আপাতঃনিস্পৃহতা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই নীরবতা বজায় রাখা প্রকারান্তরে সেই অন্যায়কে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ারই শামিল।
উপাচার্য পদের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি তাঁর মেধা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে সমাদৃত। তাঁর মতো একজন যোগ্য মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ দেশের সামগ্রিক মেধা চর্চার ওপর এক বড় আঘাত। এর ফলে তরুণ গবেষকেরা দেশীয় অ্যাকাডেমিকায় অবদান রাখতে উৎসাহ হারাবে এবং উচ্চশিক্ষা খাত মেধাশূন্য ও মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে।
ভবিষ্যতে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ৪টি বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি ফাইলের গতিবিধি ও পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের ডিজিটাল জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শতভাগ ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে উপাচার্য নিয়োগের জন্য একটি তিন স্তরের স্বাধীন সার্চ কমিটি গঠন করা।
উচ্চশিক্ষার স্বচ্ছতা, শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা তদারকির জন্য শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন মঞ্চ গঠন করা।
যে যোগ্য শিক্ষাবিদকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে এবং তাঁর যোগ্য মর্যাদায় তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের এই নাটকটি আমাদের ভঙ্গুর প্রশাসনিক নীতি, অস্বচ্ছ আমলাতন্ত্র এবং মেধার প্রতি রাষ্ট্রীয় অবহেলার চরম বহিঃপ্রকাশ। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকের সম্মান ফিরিয়ে না দিলে, 'ভাঙা আয়নায়' আমরা বারবার কেবল আমাদের জাতীয় অবক্ষয়ের কদর্য রূপটিই দেখতে বাধ্য হবো।

আপনার মতামত লিখুন