বাবা মালয়েশিয়া থেকে টাকা পাঠিয়েছেন—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এক প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—(০১) আরিফুল (৩০), পিতা- মো. শহিদুল্লা এবং (০২) সানি (২২), পিতা- মো. কামাল মিয়া। তারা দুজনেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর থানার শফিরকান্দি (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি আভিযানিক দল গত ০৯ জুন ২০২৬ খ্রি. সকালে বাঞ্চারামপুর থানাধীন শফিরকান্দি গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মুনতাছির (২১)-এর পিতা মোতাহার হোসাইন গত ৪/৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। তিনি নিয়মিত ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিবারকে টাকা পাঠাতেন। গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. বিকেলে মুনতাছিরের মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে বলা হয়, তার বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা নেওয়ার জন্য তাকে দক্ষিণখান থানার জয়নাল মার্কেট এলাকায় ডাকা হয়।
মুনতাছির সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে অপহরণকারীরা তাকে কৌশলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুর পল্লবীর একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর অপহরণকারীরা মুনতাছিরকে নির্যাতন করে তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশের এই তৎপরতার আঁচ পেয়ে অপহরণকারীরা ১২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. গভীর রাতে মুনতাছিরকে আগারগাঁও থানার শেরে-ই বাংলা নগর এলাকায় একটি সিএনজিতে তুলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান (ডিএমপি) থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আরিফুল ও সানি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কিছুদিন আগে দেশে আসেন এবং এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে পুনরায় মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সোর্সের মাধ্যমে তাদের ওপর নজরদারি রেখে অবস্থান নিশ্চিত করার পর এই অভিযান পরিচালনা করে।
সিআইডি জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ও তাদের পরিবারকে লক্ষ্য করে অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তদন্তে গ্রেফতারকৃত সানির বিরুদ্ধে ২০২০ সালের বাঞ্চারামপুর থানায় একটি আগের মামলার (দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও চুরি সংক্রান্ত) তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগ।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
বাবা মালয়েশিয়া থেকে টাকা পাঠিয়েছেন—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এক প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—(০১) আরিফুল (৩০), পিতা- মো. শহিদুল্লা এবং (০২) সানি (২২), পিতা- মো. কামাল মিয়া। তারা দুজনেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর থানার শফিরকান্দি (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি আভিযানিক দল গত ০৯ জুন ২০২৬ খ্রি. সকালে বাঞ্চারামপুর থানাধীন শফিরকান্দি গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মুনতাছির (২১)-এর পিতা মোতাহার হোসাইন গত ৪/৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। তিনি নিয়মিত ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিবারকে টাকা পাঠাতেন। গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. বিকেলে মুনতাছিরের মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে বলা হয়, তার বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা নেওয়ার জন্য তাকে দক্ষিণখান থানার জয়নাল মার্কেট এলাকায় ডাকা হয়।
মুনতাছির সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে অপহরণকারীরা তাকে কৌশলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুর পল্লবীর একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর অপহরণকারীরা মুনতাছিরকে নির্যাতন করে তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশের এই তৎপরতার আঁচ পেয়ে অপহরণকারীরা ১২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. গভীর রাতে মুনতাছিরকে আগারগাঁও থানার শেরে-ই বাংলা নগর এলাকায় একটি সিএনজিতে তুলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান (ডিএমপি) থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আরিফুল ও সানি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কিছুদিন আগে দেশে আসেন এবং এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে পুনরায় মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
সিআইডি দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সোর্সের মাধ্যমে তাদের ওপর নজরদারি রেখে অবস্থান নিশ্চিত করার পর এই অভিযান পরিচালনা করে।
সিআইডি জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ও তাদের পরিবারকে লক্ষ্য করে অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তদন্তে গ্রেফতারকৃত সানির বিরুদ্ধে ২০২০ সালের বাঞ্চারামপুর থানায় একটি আগের মামলার (দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও চুরি সংক্রান্ত) তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগ।

আপনার মতামত লিখুন