নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সাংবাদিকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নীরবতা কেন?

সাংবাদিকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নীরবতা কেন?

মোহাম্মদ সুমন চৌধুরী

সভাপতি, জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি (কেন্দ্রীয় কমিটি)

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন করেন এবং জনগণের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি মৌলিক প্রশ্ন উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে—যারা আইন প্রণয়ন করেন, তাদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার মানদণ্ড কী?

একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীকেও চাকরিতে প্রবেশের আগে শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হয়। অথচ জাতীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যতামূলক মানদণ্ড থাকে না। ফলে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের জন্য কি কোনো যোগ্যতার মাপকাঠি থাকা উচিত নয়?

সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে। যদি সত্যিই পেশাগত মানোন্নয়নের স্বার্থে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তবে একই যুক্তিতে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও নৈতিক যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। মেম্বার থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী—সবার অতীত কর্মকাণ্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য কার্যকর আইন থাকা উচিত বলে মনে করেন অনেক সচেতন নাগরিক।

অন্যদিকে সাংবাদিকতা পেশা দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড তুলে ধরার কারণে অনেক সাংবাদিক হয়রানি, হামলা-মামলা ও বিভিন্ন ধরনের চাপের শিকার হন। সমাজের অসঙ্গতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম এবং ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়ানো সাংবাদিকদের জন্য কাজের পরিবেশ সবসময় সহজ থাকে না।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কারণ, জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে জবাবদিহিতার সেতুবন্ধন তৈরি করে গণমাধ্যম। অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুর্নীতি উন্মোচন, অপরাধের তথ্য প্রকাশ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।

তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে জনপ্রতিনিধি, আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারীদের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো একটি পেশাকে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে একটি কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত পথ।

জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলবে যেখানে জনপ্রতিনিধিদের যোগ্যতা, আমলাদের জবাবদিহিতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা—সবকিছুই সমান গুরুত্ব পাবে। কারণ শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য যেমন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও নির্ভীক গণমাধ্যম।

রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার রক্ষার স্বার্থে এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই আজ সময়ের দাবি।

বিষয় : সাংবাদিকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নীরবতা কেন?

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


সাংবাদিকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নীরবতা কেন?

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

মোহাম্মদ সুমন চৌধুরী

সভাপতি, জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি (কেন্দ্রীয় কমিটি)

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন করেন এবং জনগণের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি মৌলিক প্রশ্ন উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে—যারা আইন প্রণয়ন করেন, তাদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার মানদণ্ড কী?

একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীকেও চাকরিতে প্রবেশের আগে শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হয়। অথচ জাতীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যতামূলক মানদণ্ড থাকে না। ফলে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের জন্য কি কোনো যোগ্যতার মাপকাঠি থাকা উচিত নয়?

সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে। যদি সত্যিই পেশাগত মানোন্নয়নের স্বার্থে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তবে একই যুক্তিতে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও নৈতিক যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। মেম্বার থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী—সবার অতীত কর্মকাণ্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য কার্যকর আইন থাকা উচিত বলে মনে করেন অনেক সচেতন নাগরিক।

অন্যদিকে সাংবাদিকতা পেশা দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড তুলে ধরার কারণে অনেক সাংবাদিক হয়রানি, হামলা-মামলা ও বিভিন্ন ধরনের চাপের শিকার হন। সমাজের অসঙ্গতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম এবং ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়ানো সাংবাদিকদের জন্য কাজের পরিবেশ সবসময় সহজ থাকে না।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কারণ, জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে জবাবদিহিতার সেতুবন্ধন তৈরি করে গণমাধ্যম। অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুর্নীতি উন্মোচন, অপরাধের তথ্য প্রকাশ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।

তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে জনপ্রতিনিধি, আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারীদের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো একটি পেশাকে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে একটি কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত পথ।

জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলবে যেখানে জনপ্রতিনিধিদের যোগ্যতা, আমলাদের জবাবদিহিতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা—সবকিছুই সমান গুরুত্ব পাবে। কারণ শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য যেমন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও নির্ভীক গণমাধ্যম।

রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার রক্ষার স্বার্থে এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই আজ সময়ের দাবি।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত