দুর্নীতির মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশ।
গত ১২ জুন আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে প্রেরিত একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার (১৪ জুন) সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক এই প্রভাবশালী আইজিপি-র গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে অনিয়ম-দুর্নীতির মামলায় দেশ থেকে গোপনে পালানোর পর বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ হবে? কারণ, বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা আর আসামি দেশে ফেরানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ‘ফেডারেল ল নম্বর ৩৯ অব ২০০৬’ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণ প্রস্তাব) প্রেরণ করতে হবে।
পুলিশ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেনজীরকে দেশে ফেরাতে হলে প্রধানত চারটি বাধা বা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে:
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কোনো অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি বা সুনির্দিষ্ট সমঝোতা কাঠামো নেই।
অভিযোগগুলো উভয় দেশের আইনেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হতে হবে। দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নথি শক্ত হলেও, তা আমিরাতের আদালতে নিখুঁতভাবে প্রমাণ করতে হবে।
বেনজীর আহমেদ প্রভাবশালী হওয়ায় ভালো আইনজীবী নিয়োগ করে মামলাটিকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করতে পারেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক মামলায় কাউকে প্রত্যর্পণ করা যায় না।
অতীতে রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খান কিংবা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার হলেও একাধিক দেশের পাসপোর্ট থাকায় তাদের দেশে ফেরানো যায়নি। বেনজীরের ক্ষেত্রেও এমন কোনো আইনি ঢাল রয়েছে কি না, তা একটি বড় প্রশ্ন।
ইন্টারপোলের তালিকায় বর্তমানে ৫৯ জন বাংলাদেশি অপরাধীর নাম থাকলেও তাদের অধিকাংশকেই দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। তবে এর মধ্যে আশার আলোও রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যা মামলার আসামি মহসিন মিয়াকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সফলভাবে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন সাপেক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হবে এবং অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের আন্তরিকতা ও পুলিশের চেষ্টায় বেনজীর গ্রেপ্তার হলেও, 'মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি' তথা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আদালত ও কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শেষ করে তাকে সহসা দেশে ফেরানো বেশ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রক্রিয়া হবে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
দুর্নীতির মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশ।
গত ১২ জুন আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে প্রেরিত একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার (১৪ জুন) সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক এই প্রভাবশালী আইজিপি-র গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে অনিয়ম-দুর্নীতির মামলায় দেশ থেকে গোপনে পালানোর পর বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ হবে? কারণ, বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা আর আসামি দেশে ফেরানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ‘ফেডারেল ল নম্বর ৩৯ অব ২০০৬’ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণ প্রস্তাব) প্রেরণ করতে হবে।
পুলিশ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেনজীরকে দেশে ফেরাতে হলে প্রধানত চারটি বাধা বা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে:
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কোনো অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি বা সুনির্দিষ্ট সমঝোতা কাঠামো নেই।
অভিযোগগুলো উভয় দেশের আইনেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হতে হবে। দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নথি শক্ত হলেও, তা আমিরাতের আদালতে নিখুঁতভাবে প্রমাণ করতে হবে।
বেনজীর আহমেদ প্রভাবশালী হওয়ায় ভালো আইনজীবী নিয়োগ করে মামলাটিকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করতে পারেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক মামলায় কাউকে প্রত্যর্পণ করা যায় না।
অতীতে রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খান কিংবা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার হলেও একাধিক দেশের পাসপোর্ট থাকায় তাদের দেশে ফেরানো যায়নি। বেনজীরের ক্ষেত্রেও এমন কোনো আইনি ঢাল রয়েছে কি না, তা একটি বড় প্রশ্ন।
ইন্টারপোলের তালিকায় বর্তমানে ৫৯ জন বাংলাদেশি অপরাধীর নাম থাকলেও তাদের অধিকাংশকেই দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। তবে এর মধ্যে আশার আলোও রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যা মামলার আসামি মহসিন মিয়াকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সফলভাবে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন সাপেক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হবে এবং অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের আন্তরিকতা ও পুলিশের চেষ্টায় বেনজীর গ্রেপ্তার হলেও, 'মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি' তথা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আদালত ও কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শেষ করে তাকে সহসা দেশে ফেরানো বেশ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রক্রিয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন