পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর মসলার বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, জিরা ও জিরার গুঁড়াসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাহিদা ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করলেও অতিরিক্ত দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।
আজ (শনিবার) রাজধানীর রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে এসে বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় মসলার দাম কেজিপ্রতি বেশ খানিকটা বেড়েছে। নিচে পণ্যের বর্তমান দাম ও দাম বৃদ্ধির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| পণ্যের নাম | এপ্রিলের দাম (টাকা) | বর্তমান দাম (টাকা) | দাম বৃদ্ধির পরিমাণ (টাকা) |
| পেঁয়াজ (কেজি) | ৩০-৪৫ | ৪৫-৫০ | ৫ থেকে ১৫ |
| দেশি রসুন (কেজি) | ৮০-১১০ | ১২০-১৪০ | ৩০ |
| কাঁচামরিচ (কেজি) | ১০০ | ১৪০ | ৪০ |
| আদা (কেজি) | ১৮০ | ২০০ | ২০ |
| জিরা (কেজি) | ৫৮০ | ৭০০ | ১২০ |
| জিরার গুঁড়া (কেজি) | ৬৫০ | ৮০০ | ১৫০ |
| দারুচিনি (কেজি) | ৪৫০-৫০০ | ৫০০-৬০০ | ৫০ থেকে ১০০ |
| লবঙ্গ (কেজি) | ১৩৫০-১৪০০ | ১৪০০-১৬০০ | ৫০ থেকে ২০০ |
| সয়াবিন তেল (২ লিটার) | ৩৯০-৪০০ | ৪৪০ | ৪০ থেকে ৫০ |
বাজারে কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে আমদানি করা চীনা রসুন (১৮০ টাকা), তেজপাতা (১৮০-২২০ টাকা), ধনিয়ার গুঁড়া (২০০-২৮০ টাকা), হলুদ গুঁড়া (৪০০ টাকা), শুকনো মরিচ গুঁড়া (৫০০ টাকা) এবং এলাচ (৪৬০০-৫৫০০ টাকা) আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা তাসলিমা আক্তার বলেন:
"শুধু ঈদের আগে না, বাংলাদেশে সব উৎসবের আগেই ওই উৎসবের প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যায়। সামনে কোরবানির ঈদ, বাজারে এসে দেখলাম এখন মসলার দাম বেড়ে গেছে। আগে যে পরিমাণ বাজার এক হাজার টাকায় করা যেত, এখন একই জিনিস কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগছে।"
অন্যদিকে, মসলা ব্যবসায়ী রুবেল হাসান জানান, ঈদ আসলে মসলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পাইকারি বাজারে বাড়তি দামে কিনতে হয় বলেই তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এবার গত বছরের তুলনায় ক্রেতার সমাগম কিছুটা কম বলে দাবি করেন তিনি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জানান, কোরবানির ঈদ মূলত মসলার মৌসুম হওয়ায় এ সময় বাজারে কিছুটা চাপ থাকেই। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে। কিছু পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। যারা এবার কোরবানি দিচ্ছেন না, তাদের কারণে বাজারে চাহিদা কিছুটা কম। না হলে দাম আরও বেশি বাড়ত।
ভারত থেকে মসলা চোরাচালানের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত থেকে চোরাই পথে মসলা আসছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি থাকলেও বাস্তবে এমন পণ্য সবসময়ই আসত। তবে এবার চাহিদা কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত দাম বাড়াতে পারছেন না। অনেক আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী কয়েক মাস আগেই মসলা মজুত করে রেখেছেন।
সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে ক্যাব সহসভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সয়াবিন তেলের বাজারে সংকটের পেছনে সরকারের দুর্বল অবস্থানও দায়ী। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর মসলার বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, জিরা ও জিরার গুঁড়াসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাহিদা ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করলেও অতিরিক্ত দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও বাড়তি খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।
আজ (শনিবার) রাজধানীর রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে এসে বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় মসলার দাম কেজিপ্রতি বেশ খানিকটা বেড়েছে। নিচে পণ্যের বর্তমান দাম ও দাম বৃদ্ধির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| পণ্যের নাম | এপ্রিলের দাম (টাকা) | বর্তমান দাম (টাকা) | দাম বৃদ্ধির পরিমাণ (টাকা) |
| পেঁয়াজ (কেজি) | ৩০-৪৫ | ৪৫-৫০ | ৫ থেকে ১৫ |
| দেশি রসুন (কেজি) | ৮০-১১০ | ১২০-১৪০ | ৩০ |
| কাঁচামরিচ (কেজি) | ১০০ | ১৪০ | ৪০ |
| আদা (কেজি) | ১৮০ | ২০০ | ২০ |
| জিরা (কেজি) | ৫৮০ | ৭০০ | ১২০ |
| জিরার গুঁড়া (কেজি) | ৬৫০ | ৮০০ | ১৫০ |
| দারুচিনি (কেজি) | ৪৫০-৫০০ | ৫০০-৬০০ | ৫০ থেকে ১০০ |
| লবঙ্গ (কেজি) | ১৩৫০-১৪০০ | ১৪০০-১৬০০ | ৫০ থেকে ২০০ |
| সয়াবিন তেল (২ লিটার) | ৩৯০-৪০০ | ৪৪০ | ৪০ থেকে ৫০ |
বাজারে কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে আমদানি করা চীনা রসুন (১৮০ টাকা), তেজপাতা (১৮০-২২০ টাকা), ধনিয়ার গুঁড়া (২০০-২৮০ টাকা), হলুদ গুঁড়া (৪০০ টাকা), শুকনো মরিচ গুঁড়া (৫০০ টাকা) এবং এলাচ (৪৬০০-৫৫০০ টাকা) আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা তাসলিমা আক্তার বলেন:
"শুধু ঈদের আগে না, বাংলাদেশে সব উৎসবের আগেই ওই উৎসবের প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যায়। সামনে কোরবানির ঈদ, বাজারে এসে দেখলাম এখন মসলার দাম বেড়ে গেছে। আগে যে পরিমাণ বাজার এক হাজার টাকায় করা যেত, এখন একই জিনিস কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগছে।"
অন্যদিকে, মসলা ব্যবসায়ী রুবেল হাসান জানান, ঈদ আসলে মসলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পাইকারি বাজারে বাড়তি দামে কিনতে হয় বলেই তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে এবার গত বছরের তুলনায় ক্রেতার সমাগম কিছুটা কম বলে দাবি করেন তিনি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জানান, কোরবানির ঈদ মূলত মসলার মৌসুম হওয়ায় এ সময় বাজারে কিছুটা চাপ থাকেই। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে। কিছু পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। যারা এবার কোরবানি দিচ্ছেন না, তাদের কারণে বাজারে চাহিদা কিছুটা কম। না হলে দাম আরও বেশি বাড়ত।
ভারত থেকে মসলা চোরাচালানের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত থেকে চোরাই পথে মসলা আসছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি থাকলেও বাস্তবে এমন পণ্য সবসময়ই আসত। তবে এবার চাহিদা কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত দাম বাড়াতে পারছেন না। অনেক আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী কয়েক মাস আগেই মসলা মজুত করে রেখেছেন।
সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে ক্যাব সহসভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সয়াবিন তেলের বাজারে সংকটের পেছনে সরকারের দুর্বল অবস্থানও দায়ী। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন।

আপনার মতামত লিখুন