নজর বিডি

বাজেটে প্রত্যাশার কিছুই নেই, তবুও শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত

বাজেটে প্রত্যাশার কিছুই নেই, তবুও শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মোটাদাগে দেশের শেয়ারবাজারের জন্য সরাসরি কোনো ধরনের আর্থিক প্রণোদনা কিংবা করছাড় রাখা হয়নি। বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্তরে করছাড় ও সুবিধার জোরালো দাবি জানানো হলেও সরকারের চূড়ান্ত প্রস্তাবনায় সেই বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়নি। 

তা সত্ত্বেও, বাজার সংশ্লিষ্ট শীর্ষ অংশীজন ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন—আগামী অর্থবছরটি দেশের শেয়ারবাজারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশা পূরণের বছর হতে যাচ্ছে।

বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য তাৎক্ষণিক বা বছরভিত্তিক করছাড়ের প্রথাগত ঘোষণা না থাকলেও, প্রথমবারের মতো এবার বাজার উন্নয়নের একটি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এমনও বাজেট উত্থাপিত হতে দেখা গেছে, যেখানে তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর পুরো বাজেট বক্তৃতায় 'শেয়ারবাজার' শব্দটি একবারের জন্যও উচ্চারিত হয়নি। 

অথচ, এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। স্বল্পমেয়াদি করছাড়ের চেয়ে অর্থমন্ত্রী মূলত শেয়ারবাজারকে দেশের ‘বেসরকারি বিনিয়োগের মূল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার মতো কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা জানিয়েছেন। আর এই নীতিগত প্রতিশ্রুতির কারণেই বাজারে পজিটিভ ইঙ্গিত মিলছে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "আমাদের সরকার দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। 

আমরা দেশের ঋণ-নির্ভর বিনিয়োগকে ক্রমান্বয়ে ইকুইটিতে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দূরে সরে এসে একটি টেকসই ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে, যাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চাপ কমে আসে। করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের উন্নয়ন প্রক্রিয়াও চলমান আছে। 

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে ‘পৌর বন্ড’ (Municipal Bond) ইস্যুর আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।"

"শেয়ারবাজারকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিভিন্ন সংকটের কারণে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং উদ্যোক্তারা নতুন করে ঋণও নিচ্ছেন না। 

ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ঋণ প্রবাহের হার বর্তমানে মাত্র ৬ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এখন যদি বেসরকারি খাতকে দ্রুত জাগ্রত করা না যায়, তবে জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির যে সাড় ৬ শতাংশ (৬.৫%) লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।"

দীর্ঘ বছর ধরে দেশের শেয়ারবাজারে এক চরম ও নজিরবিহীন দালিলিক দৈন্যদশা বিরাজ করছে। প্রধান সূচক ও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ইতিহাসের সর্বনিম্ন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আস্থার সংকটে বাজার ছেড়েছেন লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী। নতুন ভালো বিনিয়োগের পথও অবরুদ্ধ। বাজারে নতুন ভালো কোম্পানি টানার জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (IPO) কিংবা কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফার (QIO) বিগত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। 

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নতুন ফান্ডের জোগান দিতে রাইট শেয়ার কিংবা রিপিট পাবলিক অফারেও (RPO) চরম অনীহা দেখা গেছে। তদুপরি, করপোরেট বন্ড বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড এবং সুকুকের মতো আধুনিক বিনিয়োগ উপকরণগুলো বাজারে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।

সর্বোপরি, দেশের শেয়ারবাজার যখন একটি গভীর খাদের কিনারায় অবস্থান করছে, ঠিক এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেটে শেয়ারবাজারের আমূল ঘুরে দাঁড়ানোর সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ আরও বলেন, "শেয়ারবাজার বর্তমানে যেই মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, সেখানে বহুজাতিক ও সুশাসনসম্পন্ন ভালো কিছু কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা ছাড়া সামগ্রিক বাজারের টেকসই উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর ভালো কোম্পানি আনতে করপোরেট করে কিছু ছাড় দেওয়া গেলে অবশ্যই ভালো হতো। তবে বাজেটে সরাসরি সেই ঘোষণা না থাকলেও অনেকগুলো মৌলিক ও নীতিগত বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। 

বর্তমান সরকারের যেহেতু শেয়ারবাজারের উন্নয়নে একটি গভীর রাজনৈতিক ও নীতিগত কমিটমেন্ট আছে, তাই সামনে কী হয় সেটি দেখার জন্য আমাদের ইতিবাচক অপেক্ষা করা উচিত। আমাদের বাজারে এখন ইউনিলিভার, নেসলে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মেটলাইফের মতো নামী বিদেশি কোম্পানি, দেশীয় শীর্ষ গ্রুপ এবং লাভজনক সরকারি কোম্পানিগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং’-এর বিশেষ ব্যবস্থা রাখা উচিত।"

তিনি আরও বলেন, "পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু এবং ঢাকা এয়ারপোর্টের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর সঠিক ভ্যালুয়েশন করে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সরকারকে প্রকল্প অর্থায়নের জোগান বাড়াতে হবে। তাহলে একদিকে শেয়ারবাজারের গভীরতা ও বহুমাত্রিকতা বাড়বে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের ওপর থেকে বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের চাপও কমবে। এবারের বাজেটে আমরা এমন অনেকগুলো সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের রূপরেখা দেখতে পেয়েছি, যেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়বে।"

"করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণের ওপর অতি-নির্ভরতা কমিয়ে তাদেরকে শেয়ারবাজারের দিকে ধাবিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিক কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হলে তা শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলন করবে, আর কি পরিমাণ ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিতে পারবে—এই ডেট-টু-ইক্যুইটি রেশিও (Debt-to-Equity Ratio) নির্ধারণের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পলিসি সাপোর্ট ও কড়াকড়ি প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের এই নীতিগত ইতিবাচক মনোভাব আমরা দেখতে পেয়েছি।"

সুমিত পোদ্দার, সাধারণ সম্পাদক, বিএমবিএ

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারকে আরও গভীর, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিগতভাবে বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্ত হওয়া সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা, অতিরিক্ত প্রারম্ভিক ব্যয় এবং অনুমোদন-সংক্রান্ত অস্পষ্টতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইপিও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সময়নির্ধারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। আইপিও আবেদন দাখিল, আনুষঙ্গিক দলিলাদি যাচাই, ফি পরিশোধ ও অনুমোদনের সমস্ত ধাপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

শেয়ারবাজারের লেনদেন প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা পর্যায়ক্রমে ‘টি+শূন্য’ (দিনে সিকিউরিটিজ কিনে দিনেই বিক্রির সুবিধা) ব্যবস্থায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে শেয়ার কেনার পর তা বিক্রির জন্য বিনিয়োগকারীদের দুই কার্যদিবস (T+2) অপেক্ষা করতে হয়।

বৈধ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ/মুনাফা এবং অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাত্র এক কর্মদিবসের মধ্যে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন বা পুনঃবিনিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি এফডিআই (FDI) আকর্ষণে ভূমিকা রাখবে।

ইস্যুকারী কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল (CDBL) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি (BSEC)-এর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সম্পূর্ণ একটি সমন্বিত সেন্ট্রাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হবে।

বাজারে দীর্ঘমেয়াদি তারল্য সরবরাহ বাড়াতে পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর (AMC) অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলকভাবে বৃদ্ধি করা হবে।

বাজেট ঘোষণার আগে শেয়ারবাজারের প্রধান দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (DBA), এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BMBA) পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান দাবিগুলো ছিল—তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত করপোরেট করহারের ব্যবধান ন্যূনতম ১০ শতাংশে উন্নীত করা, নতুন কোম্পানির ক্ষেত্রে আইপিও-পরবর্তী প্রথম ৫ বছরের জন্য বিশেষ করছাড় দেওয়া, লভ্যাংশের ওপর থেকে দ্বৈত কর ও মূলধনী মুনাফা কর (Capital Gain Tax) প্রত্যাহার এবং এসএমই (SME) বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য প্রথম ৫ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি। তবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় অংশীজনদের এই তাৎক্ষণিক দাবিগুলো সরাসরি প্রতিফলিত হয়নি।

তা সত্ত্বেও, বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সুশাসনের পরিকল্পনা থাকায় এটিকে শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি অনন্য বিনিয়োগবান্ধব দলিল হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ডিএসই মনে করে, শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের এই ইতিবাচক সংস্কারমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দেশের পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, "শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার বাজেটে যে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ এবং শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারে প্রস্তাবিত বাজেটে গৃহীত উদ্যোগ দেশের শেয়ারবাজারের আধুনিকায়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে বাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।"

একইভাবে প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ডিবিএ (DBA) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, "শেয়ারবাজারের লেনদেন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া একবারে সরাসরি ‘টি+টু’ থেকে ‘টি+শূন্য’ না করে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ‘টি+ওয়ান’ (T+1) করা যেতে পারে; কারণ সরাসরি দিনে কিনে দিনে বিক্রির সুযোগ দিলে কিছু কারিগরি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 

তবে আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা কমানোর সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী এক বছরের মধ্যে বাজারের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হওয়া সম্ভব।"

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ বাজেট ২০২৬-২৭, শেয়ারবাজার, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইপিও সংস্কার, বন্ড মার্কেট, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, করপোরেট কর, অর্থনৈতিক সংস্কার, জাতীয় সংবাদ Budget 2026-27, Share Market Bangladesh, Amir Khosru Mahmud Chowdhury, IPO Reform, Bond Market, Dhaka Stock Exchange, Corporate Tax, Economic Reform, Business News Bangladesh

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


বাজেটে প্রত্যাশার কিছুই নেই, তবুও শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মোটাদাগে দেশের শেয়ারবাজারের জন্য সরাসরি কোনো ধরনের আর্থিক প্রণোদনা কিংবা করছাড় রাখা হয়নি। বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্তরে করছাড় ও সুবিধার জোরালো দাবি জানানো হলেও সরকারের চূড়ান্ত প্রস্তাবনায় সেই বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়নি। 

তা সত্ত্বেও, বাজার সংশ্লিষ্ট শীর্ষ অংশীজন ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন—আগামী অর্থবছরটি দেশের শেয়ারবাজারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশা পূরণের বছর হতে যাচ্ছে।

বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য তাৎক্ষণিক বা বছরভিত্তিক করছাড়ের প্রথাগত ঘোষণা না থাকলেও, প্রথমবারের মতো এবার বাজার উন্নয়নের একটি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এমনও বাজেট উত্থাপিত হতে দেখা গেছে, যেখানে তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর পুরো বাজেট বক্তৃতায় 'শেয়ারবাজার' শব্দটি একবারের জন্যও উচ্চারিত হয়নি। 

অথচ, এবারের বাজেট প্রস্তাবনায় ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। স্বল্পমেয়াদি করছাড়ের চেয়ে অর্থমন্ত্রী মূলত শেয়ারবাজারকে দেশের ‘বেসরকারি বিনিয়োগের মূল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার মতো কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা জানিয়েছেন। আর এই নীতিগত প্রতিশ্রুতির কারণেই বাজারে পজিটিভ ইঙ্গিত মিলছে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "আমাদের সরকার দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। 

আমরা দেশের ঋণ-নির্ভর বিনিয়োগকে ক্রমান্বয়ে ইকুইটিতে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দূরে সরে এসে একটি টেকসই ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।"

তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে, যাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চাপ কমে আসে। করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের উন্নয়ন প্রক্রিয়াও চলমান আছে। 

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে ‘পৌর বন্ড’ (Municipal Bond) ইস্যুর আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।"

"শেয়ারবাজারকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি থেকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিভিন্ন সংকটের কারণে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং উদ্যোক্তারা নতুন করে ঋণও নিচ্ছেন না। 

ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ঋণ প্রবাহের হার বর্তমানে মাত্র ৬ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এখন যদি বেসরকারি খাতকে দ্রুত জাগ্রত করা না যায়, তবে জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির যে সাড় ৬ শতাংশ (৬.৫%) লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে, তা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।"

দীর্ঘ বছর ধরে দেশের শেয়ারবাজারে এক চরম ও নজিরবিহীন দালিলিক দৈন্যদশা বিরাজ করছে। প্রধান সূচক ও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ইতিহাসের সর্বনিম্ন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আস্থার সংকটে বাজার ছেড়েছেন লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী। নতুন ভালো বিনিয়োগের পথও অবরুদ্ধ। বাজারে নতুন ভালো কোম্পানি টানার জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (IPO) কিংবা কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফার (QIO) বিগত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। 

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নতুন ফান্ডের জোগান দিতে রাইট শেয়ার কিংবা রিপিট পাবলিক অফারেও (RPO) চরম অনীহা দেখা গেছে। তদুপরি, করপোরেট বন্ড বাজার, মিউচুয়াল ফান্ড এবং সুকুকের মতো আধুনিক বিনিয়োগ উপকরণগুলো বাজারে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।

সর্বোপরি, দেশের শেয়ারবাজার যখন একটি গভীর খাদের কিনারায় অবস্থান করছে, ঠিক এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেটে শেয়ারবাজারের আমূল ঘুরে দাঁড়ানোর সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ আরও বলেন, "শেয়ারবাজার বর্তমানে যেই মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, সেখানে বহুজাতিক ও সুশাসনসম্পন্ন ভালো কিছু কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা ছাড়া সামগ্রিক বাজারের টেকসই উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর ভালো কোম্পানি আনতে করপোরেট করে কিছু ছাড় দেওয়া গেলে অবশ্যই ভালো হতো। তবে বাজেটে সরাসরি সেই ঘোষণা না থাকলেও অনেকগুলো মৌলিক ও নীতিগত বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। 

বর্তমান সরকারের যেহেতু শেয়ারবাজারের উন্নয়নে একটি গভীর রাজনৈতিক ও নীতিগত কমিটমেন্ট আছে, তাই সামনে কী হয় সেটি দেখার জন্য আমাদের ইতিবাচক অপেক্ষা করা উচিত। আমাদের বাজারে এখন ইউনিলিভার, নেসলে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মেটলাইফের মতো নামী বিদেশি কোম্পানি, দেশীয় শীর্ষ গ্রুপ এবং লাভজনক সরকারি কোম্পানিগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং’-এর বিশেষ ব্যবস্থা রাখা উচিত।"

তিনি আরও বলেন, "পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু এবং ঢাকা এয়ারপোর্টের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর সঠিক ভ্যালুয়েশন করে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সরকারকে প্রকল্প অর্থায়নের জোগান বাড়াতে হবে। তাহলে একদিকে শেয়ারবাজারের গভীরতা ও বহুমাত্রিকতা বাড়বে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের ওপর থেকে বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের চাপও কমবে। এবারের বাজেটে আমরা এমন অনেকগুলো সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের রূপরেখা দেখতে পেয়েছি, যেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়বে।"

"করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণের ওপর অতি-নির্ভরতা কমিয়ে তাদেরকে শেয়ারবাজারের দিকে ধাবিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিক কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হলে তা শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলন করবে, আর কি পরিমাণ ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিতে পারবে—এই ডেট-টু-ইক্যুইটি রেশিও (Debt-to-Equity Ratio) নির্ধারণের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট পলিসি সাপোর্ট ও কড়াকড়ি প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের এই নীতিগত ইতিবাচক মনোভাব আমরা দেখতে পেয়েছি।"

সুমিত পোদ্দার, সাধারণ সম্পাদক, বিএমবিএ

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারকে আরও গভীর, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিগতভাবে বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্ত হওয়া সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা, অতিরিক্ত প্রারম্ভিক ব্যয় এবং অনুমোদন-সংক্রান্ত অস্পষ্টতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইপিও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সময়নির্ধারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। আইপিও আবেদন দাখিল, আনুষঙ্গিক দলিলাদি যাচাই, ফি পরিশোধ ও অনুমোদনের সমস্ত ধাপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

শেয়ারবাজারের লেনদেন প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা পর্যায়ক্রমে ‘টি+শূন্য’ (দিনে সিকিউরিটিজ কিনে দিনেই বিক্রির সুবিধা) ব্যবস্থায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে শেয়ার কেনার পর তা বিক্রির জন্য বিনিয়োগকারীদের দুই কার্যদিবস (T+2) অপেক্ষা করতে হয়।

বৈধ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ/মুনাফা এবং অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাত্র এক কর্মদিবসের মধ্যে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন বা পুনঃবিনিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি এফডিআই (FDI) আকর্ষণে ভূমিকা রাখবে।

ইস্যুকারী কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল (CDBL) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি (BSEC)-এর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সম্পূর্ণ একটি সমন্বিত সেন্ট্রাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হবে।

বাজারে দীর্ঘমেয়াদি তারল্য সরবরাহ বাড়াতে পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর (AMC) অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলকভাবে বৃদ্ধি করা হবে।

বাজেট ঘোষণার আগে শেয়ারবাজারের প্রধান দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (DBA), এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BMBA) পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান দাবিগুলো ছিল—তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত করপোরেট করহারের ব্যবধান ন্যূনতম ১০ শতাংশে উন্নীত করা, নতুন কোম্পানির ক্ষেত্রে আইপিও-পরবর্তী প্রথম ৫ বছরের জন্য বিশেষ করছাড় দেওয়া, লভ্যাংশের ওপর থেকে দ্বৈত কর ও মূলধনী মুনাফা কর (Capital Gain Tax) প্রত্যাহার এবং এসএমই (SME) বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য প্রথম ৫ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি। তবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় অংশীজনদের এই তাৎক্ষণিক দাবিগুলো সরাসরি প্রতিফলিত হয়নি।

তা সত্ত্বেও, বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সুশাসনের পরিকল্পনা থাকায় এটিকে শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি অনন্য বিনিয়োগবান্ধব দলিল হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ডিএসই মনে করে, শেয়ারবাজারের প্রতি সরকারের এই ইতিবাচক সংস্কারমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দেশের পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, "শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার বাজেটে যে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ এবং শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারে প্রস্তাবিত বাজেটে গৃহীত উদ্যোগ দেশের শেয়ারবাজারের আধুনিকায়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে বাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।"

একইভাবে প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ডিবিএ (DBA) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, "শেয়ারবাজারের লেনদেন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া একবারে সরাসরি ‘টি+টু’ থেকে ‘টি+শূন্য’ না করে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ‘টি+ওয়ান’ (T+1) করা যেতে পারে; কারণ সরাসরি দিনে কিনে দিনে বিক্রির সুযোগ দিলে কিছু কারিগরি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 

তবে আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা কমানোর সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী এক বছরের মধ্যে বাজারের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হওয়া সম্ভব।"


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত