নজর বিডি

১০ মাস শেষে ঘাটতির পাহাড়, ১.০৪ লাখ কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর!

১০ মাস শেষে ঘাটতির পাহাড়, ১.০৪ লাখ কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর!
সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস (জুলাই-এপ্রিল) শেষে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এপ্রিল মাস পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। ১০ মাসে ১০.৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও লক্ষ্যমাত্রা ও আদায়ের এই বিশাল ব্যবধানকে ‘ঘাটতির পাহাড়’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর আগে অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেও ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থবছরের বাকি মাত্র দুই মাস (মে ও জুন)। এই সময়ে সংশোধিত মূল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে এনবিআরকে আরও ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে। বিগত বছরগুলোর আদায়ের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

১০ মাসে তিন বিভাগের মধ্যে আয়কর বিভাগে সর্বোচ্চ ১১.৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও এই খাতেই ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ঘাটতি প্রায় ৪৪ হাজার ৩৩ কোটি টাকা।

আদায় হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ঘাটতি ৩৫ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৯০ হাজার ৭৬২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ঘাটতি ২৫ Fear ১৯২ কোটি টাকা।

একক মাস হিসেবে গত এপ্রিলে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা। এপ্রিল মাসে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৬.৭১ শতাংশ।

এপ্রিলে কাস্টমস খাতে ১৭.৯৫ শতাংশ এবং আয়কর খাতে ১৪.৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ভ্যাট খাতে ৩.১৭ শতাংশ ঋণাত্মক (মাইনাস) প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ভ্যাটে ১৮ হাজার ৩১৩ কোটি ২ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৭ flag ৪০৩ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায়ের এই ধীরগতির বিষয়ে এনবিআরের কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মূলত আমদানি কমে যাওয়া, চলমান ব্যবসায়িক মন্দা, কর ফাঁকি এবং প্রত্যাশিত হারে নতুন বিনিয়োগ না বাড়ার কারণেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। তবে অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে, যার ফলে চূড়ান্ত ঘাটতি কিছুটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ baggy কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআর, রাজস্ব ঘাটতি, ২০২৫-২৬ অর্থবছর, কর আদায়, ভ্যাট ও কাস্টমস, বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাজেট লক্ষ্যমাত্রা, এনবিআর রাজস্ব National Board of Revenue, NBR, Revenue Deficit, FY 2025-26, Tax Collection, VAT and Customs, Bangladesh Economy, Budget Target, NBR News

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


১০ মাস শেষে ঘাটতির পাহাড়, ১.০৪ লাখ কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর!

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস (জুলাই-এপ্রিল) শেষে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এপ্রিল মাস পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। ১০ মাসে ১০.৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও লক্ষ্যমাত্রা ও আদায়ের এই বিশাল ব্যবধানকে ‘ঘাটতির পাহাড়’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর আগে অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেও ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থবছরের বাকি মাত্র দুই মাস (মে ও জুন)। এই সময়ে সংশোধিত মূল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে এনবিআরকে আরও ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে। বিগত বছরগুলোর আদায়ের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

১০ মাসে তিন বিভাগের মধ্যে আয়কর বিভাগে সর্বোচ্চ ১১.৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও এই খাতেই ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ঘাটতি প্রায় ৪৪ হাজার ৩৩ কোটি টাকা।

আদায় হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ঘাটতি ৩৫ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৯০ হাজার ৭৬২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ঘাটতি ২৫ Fear ১৯২ কোটি টাকা।

একক মাস হিসেবে গত এপ্রিলে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা। এপ্রিল মাসে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৬.৭১ শতাংশ।

এপ্রিলে কাস্টমস খাতে ১৭.৯৫ শতাংশ এবং আয়কর খাতে ১৪.৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ভ্যাট খাতে ৩.১৭ শতাংশ ঋণাত্মক (মাইনাস) প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ভ্যাটে ১৮ হাজার ৩১৩ কোটি ২ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৭ flag ৪০৩ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায়ের এই ধীরগতির বিষয়ে এনবিআরের কর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মূলত আমদানি কমে যাওয়া, চলমান ব্যবসায়িক মন্দা, কর ফাঁকি এবং প্রত্যাশিত হারে নতুন বিনিয়োগ না বাড়ার কারণেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। তবে অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে, যার ফলে চূড়ান্ত ঘাটতি কিছুটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ baggy কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত