নজর বিডি

পার্কিং দখল ও চাঁদাবাজির খবর সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক

পার্কিং দখল ও চাঁদাবাজির খবর সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক

বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিংয়ে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজী, তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার  সাংবাদিক মাসুদ রানা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিংকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্টেশন মাস্টার, রেলওয়ে পুলিশের কিছু সদস্য, কথিত সাংবাদিক ও চাঁদাবাজ চক্রের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পার্কিং এলাকা। ফলে সাধারণ যাত্রী কিংবা প্রাইভেটকার চালকরা পার্কিং ব্যবহার করতে গিয়ে পড়ছেন ভোগান্তিতে।


অভিযোগ রয়েছে, গত ১৮ মে জাতীয় দৈনিক নবচেতনার পত্রিকার সাংবাদিক মাসুদ রানার কাছে তথ্য আসে যে, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালিত হবে। এ খবর সংগ্রহ করতে তিনি স্টেশনের কার পার্কিং এলাকায় গেলে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমল থেকে পার্কিং এলাকায় চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে। হামলাকারীদের মধ্যে কথিত সাংবাদিক ফারুক, ‘চাঁদা জামাল’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি এবং রেলওয়ে পুলিশের আইসি হারুনের অনুসারীরা ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় ৩০ থেকে ৩৫ জন অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়।

এ সময় সাংবাদিক মাসুদ রানার কাঁধের ব্যাগ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা, একটি ১৩০০ডি ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার সময় রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরে খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে এসে আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী বাংলাদেশ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায়েএকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিং এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এই অর্থের ভাগ বিভিন্ন কথিত সাংবাদিক, ইউটিউবার, রেলওয়ে প্রশাসনের অসাধু সদস্য ও চাঁদাবাজদের মধ্যে বণ্টন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকা আরও অনিরাপদ হয়ে উঠবে। এছাড়া রেলওয়ে স্টেশনের ভেতরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগও করেছেন তারা।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ সুপার নিকোলিন চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : পার্কিং দখল ও চাঁদাবাজির খবর সংগ্রহে গিয়ে আক্রান্ত সাংবাদিক পার্কিং দখল ও চাঁদাবাজির খবর সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


পার্কিং দখল ও চাঁদাবাজির খবর সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিংয়ে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজী, তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার  সাংবাদিক মাসুদ রানা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিংকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্টেশন মাস্টার, রেলওয়ে পুলিশের কিছু সদস্য, কথিত সাংবাদিক ও চাঁদাবাজ চক্রের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পার্কিং এলাকা। ফলে সাধারণ যাত্রী কিংবা প্রাইভেটকার চালকরা পার্কিং ব্যবহার করতে গিয়ে পড়ছেন ভোগান্তিতে।


অভিযোগ রয়েছে, গত ১৮ মে জাতীয় দৈনিক নবচেতনার পত্রিকার সাংবাদিক মাসুদ রানার কাছে তথ্য আসে যে, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালিত হবে। এ খবর সংগ্রহ করতে তিনি স্টেশনের কার পার্কিং এলাকায় গেলে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমল থেকে পার্কিং এলাকায় চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে। হামলাকারীদের মধ্যে কথিত সাংবাদিক ফারুক, ‘চাঁদা জামাল’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি এবং রেলওয়ে পুলিশের আইসি হারুনের অনুসারীরা ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় ৩০ থেকে ৩৫ জন অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়।

এ সময় সাংবাদিক মাসুদ রানার কাঁধের ব্যাগ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা, একটি ১৩০০ডি ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার সময় রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরে খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে এসে আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী বাংলাদেশ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায়েএকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের কার পার্কিং এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এই অর্থের ভাগ বিভিন্ন কথিত সাংবাদিক, ইউটিউবার, রেলওয়ে প্রশাসনের অসাধু সদস্য ও চাঁদাবাজদের মধ্যে বণ্টন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকা আরও অনিরাপদ হয়ে উঠবে। এছাড়া রেলওয়ে স্টেশনের ভেতরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগও করেছেন তারা।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ সুপার নিকোলিন চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত