রাজধানীর সরকারি সংগীত কলেজের লোকসংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম. এম. ইউনুছুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ডিজিটাল হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী তানজিদা আফরিন নিঝুম শের-ই-বাংলা নগর থানায় এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এর আগে গত এপ্রিল মাসেও একই শিক্ষককে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা, অসদাচরণ, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।
নতুন অভিযোগপত্রে সাবেক শিক্ষার্থী তানজিদা আফরিন দাবি করেন, শিক্ষাজীবনে শিক্ষক ইউনুছুর রহমান তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের মাধ্যমে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন।
শিক্ষকের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে একাডেমিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখানো, ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। অন্য একটি অভিযোগপত্রে কলেজের ছাত্রাবাস ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে জিডি বা মামলা করার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে কলেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিভিন্ন ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অশালীন পোস্ট করেছেন এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অনেককে চাপে রাখতেন।
কলেজ-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক এম. এম. ইউনুছুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও প্রতিবাদ করায় সরকারি সঙ্গীত কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ জসীমকে পাশ কাটিয়ে গোপনে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ প্রশাসন।
এ বিষয়ে সরকারি সংগীত কলেজের অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা পূর্বে বলেছিলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমান থেকে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কলেজ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে "মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে দাবি করে আসছেন এম. এম. ইউনুছুর রহমান। তিনি পূর্বে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই একটি পক্ষ তাকে টার্গেট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। নতুন করে থানায় করা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে অভিযোগকারী সাবেক শিক্ষার্থী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
রাজধানীর সরকারি সংগীত কলেজের লোকসংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম. এম. ইউনুছুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ডিজিটাল হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী তানজিদা আফরিন নিঝুম শের-ই-বাংলা নগর থানায় এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এর আগে গত এপ্রিল মাসেও একই শিক্ষককে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা, অসদাচরণ, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।
নতুন অভিযোগপত্রে সাবেক শিক্ষার্থী তানজিদা আফরিন দাবি করেন, শিক্ষাজীবনে শিক্ষক ইউনুছুর রহমান তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের মাধ্যমে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন।
শিক্ষকের প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে একাডেমিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখানো, ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। অন্য একটি অভিযোগপত্রে কলেজের ছাত্রাবাস ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে জিডি বা মামলা করার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে কলেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিভিন্ন ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অশালীন পোস্ট করেছেন এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অনেককে চাপে রাখতেন।
কলেজ-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক এম. এম. ইউনুছুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও প্রতিবাদ করায় সরকারি সঙ্গীত কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ জসীমকে পাশ কাটিয়ে গোপনে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ প্রশাসন।
এ বিষয়ে সরকারি সংগীত কলেজের অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা পূর্বে বলেছিলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমান থেকে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কলেজ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে "মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে দাবি করে আসছেন এম. এম. ইউনুছুর রহমান। তিনি পূর্বে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই একটি পক্ষ তাকে টার্গেট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। নতুন করে থানায় করা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে অভিযোগকারী সাবেক শিক্ষার্থী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন