সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে ৮ বছরের এক হতদরিদ্র এতিম শিশুকে দুই কিশোর মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এই পৈশাচিক ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং গুরুতর আহত শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের পরিবারের বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত লাগোয়া কলাগাঁও গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটির নানীর একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কলাগাঁও গ্রামের আল-আমিনের ছেলে সাকিব মিয়া (১৪) ও রনি মিয়ার ছেলে রিসাল মিয়া (১৪) ওই শিশুটিকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে বাড়ির পেছনের টয়লেটে (ল্যাপটিন) পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ওই দুই কিশোর।
পরে পরিবার ঘটনাটি জানতে পারলে অভিযুক্তদের প্রভাবশালী পরিবার সামাজিকভাবে টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পাশাপাশি শিশুটির রক্তক্ষরণ হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা প্রদান করে এবং ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ধর্ষিতা শিশুটির নানী জানান, “এর আগেও গত অগ্রহায়ণ মাসে আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে সাকিব আর রিসাল আমার নাতনিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছিল। তখন তারা বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য আমাদের হুমকি দেয়। ওরা এলাকায় শক্তিশালী মানুষ, আমরা গরীব মানুষ। তাই ভয়ে তখন কাউকে কিছু বলি নাই। এখন আবার গত বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পরে বাড়িতে একলা পাইয়া জোর কইরা টাইন্না নিয়া ল্যাপ্টিনে ধর্ষণ করছে। আমরা গরীব মানুষ বইলা কি বিচার পাব না? আমি এর সূক্ষ্ম বিচার চাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, “ভুক্তভোগী শিশুটির নানী ঘটনাটি আমাকে জানিয়েছেন। ছেলে-মেয়ে তিনজনই অবশ্য বয়সে ছোট।”
ফেসবুকে ভুক্তভোগী পরিবারের ভিডিও বক্তব্য ভাইরাল হলেও গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে জানান তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর ইসলাম।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে ৮ বছরের এক হতদরিদ্র এতিম শিশুকে দুই কিশোর মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এই পৈশাচিক ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং গুরুতর আহত শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের পরিবারের বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত লাগোয়া কলাগাঁও গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটির নানীর একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কলাগাঁও গ্রামের আল-আমিনের ছেলে সাকিব মিয়া (১৪) ও রনি মিয়ার ছেলে রিসাল মিয়া (১৪) ওই শিশুটিকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে বাড়ির পেছনের টয়লেটে (ল্যাপটিন) পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ওই দুই কিশোর।
পরে পরিবার ঘটনাটি জানতে পারলে অভিযুক্তদের প্রভাবশালী পরিবার সামাজিকভাবে টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পাশাপাশি শিশুটির রক্তক্ষরণ হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা প্রদান করে এবং ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ধর্ষিতা শিশুটির নানী জানান, “এর আগেও গত অগ্রহায়ণ মাসে আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে সাকিব আর রিসাল আমার নাতনিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছিল। তখন তারা বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য আমাদের হুমকি দেয়। ওরা এলাকায় শক্তিশালী মানুষ, আমরা গরীব মানুষ। তাই ভয়ে তখন কাউকে কিছু বলি নাই। এখন আবার গত বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পরে বাড়িতে একলা পাইয়া জোর কইরা টাইন্না নিয়া ল্যাপ্টিনে ধর্ষণ করছে। আমরা গরীব মানুষ বইলা কি বিচার পাব না? আমি এর সূক্ষ্ম বিচার চাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, “ভুক্তভোগী শিশুটির নানী ঘটনাটি আমাকে জানিয়েছেন। ছেলে-মেয়ে তিনজনই অবশ্য বয়সে ছোট।”
ফেসবুকে ভুক্তভোগী পরিবারের ভিডিও বক্তব্য ভাইরাল হলেও গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে জানান তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর ইসলাম।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন