সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মহান আল্লাহর কাছে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ। রমজানের শেষ দশ রাত যেমন শ্রেষ্ঠ রজনী, ঠিক তেমনি জিলহজের প্রথম দশ দিন হলো বছরের শ্রেষ্ঠ দিন।
হজে যান কিংবা না যান—এই বরকতময় দিনগুলোতে সর্বোচ্চ সওয়াব ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যে ১০টি আমল করা অত্যন্ত জরুরি, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা
যারা হজে গিয়েছেন তারা তালবিয়া পাঠ করবেন, আর যারা যাননি তারা ঘরে বসেই বেশি বেশি তসবিহ ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের জিহ্বা যেন সবসময় আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে। (তিরমিজি)
এই পবিত্র সময়ে সাধ্যমতো দান-সদকা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। দানের পরিমাণ ছোট হলেও এই দিনগুলোর উসিলায় তার সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। প্রকাশ্যে বা গোপনে—উভয়ভাবেই অভাবগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা যেতে পারে।
মুসলিম শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফার দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এই একটি রোজার বিনিময়ে মহান আল্লাহ বান্দার বিগত এক বছর এবং আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
সূর্যোদয়ের পর থেকে জোহরের নামাজের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত দুই রাকাত চাশতের নফল নামাজ আদায়ের অভ্যাস করুন। বুখারি শরিফের বর্ণনা মতে, এই দিনগুলোতে নফল ইবাদত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বাড়াতে মুসলিম প্রতিবেশীদের ঈদের উপহার দিন। মুসলিম শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, এই পবিত্র দিনগুলোতে উপহার আদান-প্রদান অতিরিক্ত সওয়াব ও বরকত বয়ে আনে।
জিলহজের এই দিনগুলো, বিশেষ করে আরাফার দিন আল্লাহর দরবারে প্রচুর দোয়া করুন। তিরমিজি শরিফের বর্ণনা অনুসারে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন—সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফাত দিবসের দোয়া।
সামর্থ্য থাকলে জিলহজের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে হজ সম্পাদন করা এই সময়ের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত। আর যাদের এবার সম্ভব হয়নি, তারা আগামী বছর হজ করার ঐকান্তিক নিয়ত বা ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন।
তিরমিজি শরিফের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের সাথে মোলাকাতের সময় বিনয়, নম্রতা ও কোমলতা বজায় রাখুন। এই পবিত্র দিনগুলোতে সুন্দর আচরণও আমলনামায় বিশেষ সওয়াব যুক্ত করে।
১০, ১১ বা ১২ জিলহজ সামর্থ্য অনুযায়ী ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানি সম্পন্ন করুন এবং অভাবীদের মাঝে গোশত বিলিয়ে দিন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় একমাত্র 'তাকওয়া'। (সুরা হজ: ৩৭)
এই বরকতময় দিনগুলোর ফজিলত ও আমল সম্পর্কে পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধুদের জানান। কাউকে ভালো কাজের দাওয়াত দিলে বা উৎসাহিত করলে সমপরিমাণ সওয়াব নিজের আমলনামায়ও যোগ হয়।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন মহান আল্লাহর কাছে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ। রমজানের শেষ দশ রাত যেমন শ্রেষ্ঠ রজনী, ঠিক তেমনি জিলহজের প্রথম দশ দিন হলো বছরের শ্রেষ্ঠ দিন।
হজে যান কিংবা না যান—এই বরকতময় দিনগুলোতে সর্বোচ্চ সওয়াব ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যে ১০টি আমল করা অত্যন্ত জরুরি, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা
যারা হজে গিয়েছেন তারা তালবিয়া পাঠ করবেন, আর যারা যাননি তারা ঘরে বসেই বেশি বেশি তসবিহ ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের জিহ্বা যেন সবসময় আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে। (তিরমিজি)
এই পবিত্র সময়ে সাধ্যমতো দান-সদকা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। দানের পরিমাণ ছোট হলেও এই দিনগুলোর উসিলায় তার সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। প্রকাশ্যে বা গোপনে—উভয়ভাবেই অভাবগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা যেতে পারে।
মুসলিম শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফার দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এই একটি রোজার বিনিময়ে মহান আল্লাহ বান্দার বিগত এক বছর এবং আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
সূর্যোদয়ের পর থেকে জোহরের নামাজের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত দুই রাকাত চাশতের নফল নামাজ আদায়ের অভ্যাস করুন। বুখারি শরিফের বর্ণনা মতে, এই দিনগুলোতে নফল ইবাদত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বাড়াতে মুসলিম প্রতিবেশীদের ঈদের উপহার দিন। মুসলিম শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, এই পবিত্র দিনগুলোতে উপহার আদান-প্রদান অতিরিক্ত সওয়াব ও বরকত বয়ে আনে।
জিলহজের এই দিনগুলো, বিশেষ করে আরাফার দিন আল্লাহর দরবারে প্রচুর দোয়া করুন। তিরমিজি শরিফের বর্ণনা অনুসারে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন—সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফাত দিবসের দোয়া।
সামর্থ্য থাকলে জিলহজের ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে হজ সম্পাদন করা এই সময়ের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত। আর যাদের এবার সম্ভব হয়নি, তারা আগামী বছর হজ করার ঐকান্তিক নিয়ত বা ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন।
তিরমিজি শরিফের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের সাথে মোলাকাতের সময় বিনয়, নম্রতা ও কোমলতা বজায় রাখুন। এই পবিত্র দিনগুলোতে সুন্দর আচরণও আমলনামায় বিশেষ সওয়াব যুক্ত করে।
১০, ১১ বা ১২ জিলহজ সামর্থ্য অনুযায়ী ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানি সম্পন্ন করুন এবং অভাবীদের মাঝে গোশত বিলিয়ে দিন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় একমাত্র 'তাকওয়া'। (সুরা হজ: ৩৭)
এই বরকতময় দিনগুলোর ফজিলত ও আমল সম্পর্কে পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধুদের জানান। কাউকে ভালো কাজের দাওয়াত দিলে বা উৎসাহিত করলে সমপরিমাণ সওয়াব নিজের আমলনামায়ও যোগ হয়।

আপনার মতামত লিখুন