মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হলো—সে নিজেকে মুসাফির জেনেও এই পৃথিবীর স্থায়ী বাসিন্দার মতো আচরণ করে। মাত্র দুই মুঠো আহার, সামান্য কিছু কাপড় আর একটুখানি আশ্রয়ের প্রয়োজন নিয়ে পৃথিবীতে আসা মানুষটি একসময় অর্থ, ক্ষমতা ও প্রভাবের এমন এক অন্ধ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে, যেন তাকে কোনোদিন এই পৃথিবী ছেড়ে যেতেই হবে না।
অথচ মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই মোহের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন:
“তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন তো কেবল খেল-তামাশা, সৌন্দর্যের প্রদর্শনী, পারস্পরিক গর্ব এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা মাত্র।” — সূরা আল-হাদীদ: ২০
এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষ কখনো অন্যের হক, কখনো আত্মীয়ের হক, আবার কখনো সমাজ ও রাষ্ট্রের হক নষ্ট করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। কিন্তু নির্মম সত্য হলো, মৃত্যুর মহাসড়কে পা রাখার পর তার সঙ্গে একটি মুদ্রাও যায় না; সঙ্গী হয় কেবলই তার আমল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ সম্পদের প্রকৃত সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন:
“মানুষ বলে, আমার সম্পদ, আমার সম্পদ। অথচ তার সম্পদ কেবল তিনটি—যা সে খেয়ে শেষ করেছে, যা পরিধান করে পুরাতন করেছে এবং যা দান করে পরকালের জন্য সংরক্ষণ করেছে।” — সহিহ মুসলিম
মৃত্যুর পর মানুষ তার ব্যাংক ব্যালেন্স বা অট্টালিকার জন্য স্মরণীয় হয় না; সে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে তার সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবতা ও কল্যাণকর কর্মের জন্য।
সৎ মানুষের ভালো কাজ যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে আলো ছড়ায়।অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ মালিককে সম্মান দেয় না, বরং ইতিহাসের পাতায় এক একটি ঘৃণিত সতর্কবার্তা হিসেবে রেখে যায়।
তাই সম্পদের মালিক হওয়ার অন্ধ দৌড়ে শামিল হওয়ার আগে, উত্তম আমলের মালিক হওয়ার চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ শেষ বিচারে এই পৃথিবী মানুষকে তার রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়ে নয়, তার রেখে যাওয়া কর্ম ও চরিত্র দিয়েই মূল্যায়ন করে।
যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
“আর মানুষের জন্য তাই আছে, যার জন্য সে চেষ্টা করে।” — সূরা আন-নাজম: ৩৯
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ জীবন দর্শন, ক্ষণস্থায়ী জীবন, পরকাল, মুসাফির, ইসলামিক উক্তি, কুরআন, হাদিস, সূরা আল হাদীদ, সূরা আন নাজম, আত্মশুদ্ধি, সৎ আমল, মোহের অবসান, মানবতা, সততা, পরোপকার Life Philosophy, Temporal Life, Afterlife, Musafir, Islamic Quotes, Quran, Hadith, Surah Al-Hadid, Surah An-Najm, Self-Purification, Good Deeds, Materialism, Humanity, Honesty, Charity

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হলো—সে নিজেকে মুসাফির জেনেও এই পৃথিবীর স্থায়ী বাসিন্দার মতো আচরণ করে। মাত্র দুই মুঠো আহার, সামান্য কিছু কাপড় আর একটুখানি আশ্রয়ের প্রয়োজন নিয়ে পৃথিবীতে আসা মানুষটি একসময় অর্থ, ক্ষমতা ও প্রভাবের এমন এক অন্ধ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে, যেন তাকে কোনোদিন এই পৃথিবী ছেড়ে যেতেই হবে না।
অথচ মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই মোহের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন:
“তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন তো কেবল খেল-তামাশা, সৌন্দর্যের প্রদর্শনী, পারস্পরিক গর্ব এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা মাত্র।” — সূরা আল-হাদীদ: ২০
এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষ কখনো অন্যের হক, কখনো আত্মীয়ের হক, আবার কখনো সমাজ ও রাষ্ট্রের হক নষ্ট করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে। কিন্তু নির্মম সত্য হলো, মৃত্যুর মহাসড়কে পা রাখার পর তার সঙ্গে একটি মুদ্রাও যায় না; সঙ্গী হয় কেবলই তার আমল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ সম্পদের প্রকৃত সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন:
“মানুষ বলে, আমার সম্পদ, আমার সম্পদ। অথচ তার সম্পদ কেবল তিনটি—যা সে খেয়ে শেষ করেছে, যা পরিধান করে পুরাতন করেছে এবং যা দান করে পরকালের জন্য সংরক্ষণ করেছে।” — সহিহ মুসলিম
মৃত্যুর পর মানুষ তার ব্যাংক ব্যালেন্স বা অট্টালিকার জন্য স্মরণীয় হয় না; সে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে তার সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবতা ও কল্যাণকর কর্মের জন্য।
সৎ মানুষের ভালো কাজ যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে আলো ছড়ায়।অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ মালিককে সম্মান দেয় না, বরং ইতিহাসের পাতায় এক একটি ঘৃণিত সতর্কবার্তা হিসেবে রেখে যায়।
তাই সম্পদের মালিক হওয়ার অন্ধ দৌড়ে শামিল হওয়ার আগে, উত্তম আমলের মালিক হওয়ার চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ শেষ বিচারে এই পৃথিবী মানুষকে তার রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়ে নয়, তার রেখে যাওয়া কর্ম ও চরিত্র দিয়েই মূল্যায়ন করে।
যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
“আর মানুষের জন্য তাই আছে, যার জন্য সে চেষ্টা করে।” — সূরা আন-নাজম: ৩৯

আপনার মতামত লিখুন