নজর বিডি

কোরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় মাসআলা

কোরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় মাসআলা

মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী রচিত এবং সংকলিত "কোরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানী" বিষয়ক লেখাটি একটি অত্যন্ত চমৎকার, তথ্যবহুল ও রেফারেন্সযুক্ত নিবন্ধ। ইসলামে কুরবানীর গুরুত্ব, ইতিহাস, হুকুম এবং বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা অত্যন্ত সহজ ভাষায় এখানে ফুটে উঠেছে।

কুরবানীর সংজ্ঞা...

আরবী ‘কুরবান’ (قربان) শব্দটি ফারসী বা ঊর্দূতে ‘কুরবানী’ রূপে পরিচিত হয়েছে, যার অর্থ ‘নৈকট্য’। পারিভাষিক অর্থে  القُرْبَانُ مَا يُتَقَرَّبُ بِهِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى  

‘কুরবানী’ ঐ মাধ্যমকে বলা হয়, যার দ্বারা আল্লাহ্র নৈকট্য হাছিল হয়’। প্রচলিত অর্থে, ঈদুল আযহার দিন আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শারঈ তরীকায় যে পশু যবহ করা হয়, তাকে ‘কুরবানী’ বলা হয়’। সকালে রক্তিম সূর্য উপরে ওঠার সময়ে ‘কুরবানী’ করা হয় বলে এই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল আযহা’ বলা হয়ে থাকে। যদিও কুরবানী সারাদিন ও পরের দু’দিন করা যায়।

★কোরআনের আলোকে কুরবানীর গুরুত্ব...

(ক) আল্লাহ বলেন,

وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ  

 ‘আর কুরবানীর পশু সমূহকে আমরা তোমাদের জন্য আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি। এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে’ (হজ্জ ২২/৩৬)।

(খ) আল্লাহ আরও বলেন

, وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ، وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ  

‘আর আমরা তার (অর্থাৎ ইসমাঈলের) পরিবর্তে যবহ করার জন্য দিলাম একটি মহান কুরবানী’। ‘এবং আমরা এটিকে (অর্থাৎ কুরবানীর এ প্রথাটিকে) পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিলাম’ (ছাফফাত ৩৭/১০৭-১০৮)।

(গ) আল্লাহ বলেন,

 فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ (الكوثر ২)-  

‘তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ছালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর’ (সূরা কাওছার ১০৮/২)। কাফির-মুশরিকরা তাদের দেব-দেবী ও বিভিন্ন কবর ও বেদীতে পূজা দেয় ও মূর্তির উদ্দেশ্যে কুরবানী করে থাকে। তার প্রতিবাদ স্বরূপ মুসলমানকে আল্লাহ্র জন্য ‘ছালাত আদায়ের ও তাঁর উদ্দেশ্যে কুরবানী করার’ হুকুম দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আযহার দিন প্রথমে আল্লাহ্র জন্য ঈদের ছালাত আদায় করতে হয়, অতঃপর তাঁর নামে কুরবানী করতে হয়। অনেক মুফাসসির এভাবেই আয়াতটির তাফসীর করেছেন।

★হাদিসের আলোকে কুরবানীর গুরুত্ব... 

আবু হুরায়রা (রা:) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেন,

مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةً وَلَمْ يُضَحِّ فَلاَ يَقْرِبَنَّ مُصَلاَّنَا رواه ابن ماجه بإسناد حسن-

অনুবাদ:‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়’। সূত্র:[ইবনু মাজাহ হা/৩১২৩]

এটি ইসলামের একটি ‘মহান নিদর্শন’ (شعار عظيم), যা ‘সুন্নাতে ইবরাহীমী’ হিসাবে রাসূলুল্লাহ (সা:) নিজে মদীনায় প্রতি বছর আদায় করেছেন এবং সাহাবীগণও নিয়মিতভাবে কুরবানী করেছেন। অতঃপর অবিরত ধারায় মুসলিম সামর্থ্যবানদের মধ্যে এটি চালু আছে। এটি কিতাব ও সুন্নাহ এবং ইজমায়ে উম্মত দ্বারা সুপ্রমাণিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর কুরবানী করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.বলেন-

أَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِالمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُضَحِّي كُلّ سَنَةٍ.

অনুবাদ:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় দশ বছর ছিলেন। প্রতি বছরই কুরবানী করেছেন। 

সূত্র:[জামে তিরমিযী,হা/১৫০৭]

★কুরবানীর উদ্দেশ্য...

মূল উদ্দেশ্য আল্লাহভীতি অর্জন করা। যাতে মানুষ এটা উপলব্ধি করে যে, আল্লাহ্র বিশেষ অনুগ্রহের কারণেই শক্তিশালী পশুগুলি তাদের মত দুর্বলদের অনুগত হয়েছে এবং তাদের গোশত, হাড়-হাড্ডি-মজ্জা ইত্যাদির মধ্যে তাদের জন্য রূযী নির্ধারিত হয়েছে। জাহেলী যুগের আরবরা আল্লাহ্র নৈকট্য হাছিলের অসীলা হিসাবে তাদের মূর্তির নামে কুরবানী করত। অতঃপর তার গোশতের কিছু অংশ মূর্তিগুলির মাথায় রাখত ও তার উপরে কিছু রক্ত ছিটিয়ে দিত। কেউবা উক্ত রক্ত কা‘বা গৃহের দেওয়ালে লেপন করত। মুসলমানদের কেউ কেউ অনুরূপ করার চিন্তা করলে নিম্নের আয়াতটি নাযিল হয়।

 আল্লাহ বলেন,

لَنْ يَّنَالَ اللهَ لُحُوْمُهَا وَلاَ دِمَاؤُهَا وَ لَكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ (الحج ৩৭)-

অর্থ:‘কুরবানীর পশুর গোশত বা রক্ত আল্লাহ্র নিকটে পৌঁছে না। বরং তাঁর নিকটে পৌঁছে কেবলমাত্র তোমাদের ‘তাক্বওয়া’ বা আল্লাহভীতি’ (হজ্জ ২২/৩৭)।

★কুরবানীর হুকুম কি?...

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসের আলোকে ইমাম আবু হানীফা রাহ. বলেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।

ইমাম রাবীয়াহ রাহ., আওযায়ী রাহ., লাইস ইবনে সা‘দ রাহ., ছাওরী রাহ., নাখায়ী রাহ. প্রমুখের অভিমতও অনুরূপ।

ইমাম মালেক রাহ.-এরও একটি মত এরূপ। তাছাড়া মুজাহিদ রাহ., মাকহূল রাহ. ও শা’বী রাহ. প্রমুখ থেকেও এমনটি বর্ণিত আছে। -সূত্র:[শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৭/৩০৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ১৩/৩৬০; ফাতাওয়াতাতারখানিয়া ১৭/৪০৩;]

সারকথা, কুরবানী ইসলামের শিআর এবং জরুরি ইবাদত। এতে ইমামদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই। ইখতিলাফ শুধু এতটুকু যে, অনেক ইমাম একে ওয়াজিব বলেন। আর আমাদের নিকট এই বক্তব্যের দলীলই শক্তিশালী। আর ইমাম শাফেয়ী রাহ.-সহ অনেক ফকীহ একে সুন্নত বলেন। তবে সুন্নত দ্বারা তাদের অনেকের উদ্দেশ্য সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। আর সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ জরুরি আমলেরই অন্তর্ভুক্ত।

নিম্নে কুরবানীর কিছু জরুরি মাসআলা পেশ করছি... 

১। কুরবানীর দিনগুলোতে (১০ যিলহজ্ব ফজর উদয়ের পর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত) কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।

২। যিলহজ্বের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানীর আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, মোচ, নাভীর নিচের পশম ইত্যাদি না কাটা। এটা মুস্তাহাব আমল।

আর যে ব্যক্তি কুরবানী করতে সক্ষম নয় সেও এ আমল করবে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটবে না; বরং তা কুরবানীর দিন কাটবে।

৩। কুরবানীর পশুর বয়সসীমা:

কুরবানীর জন্য উট কমপক্ষে ৫ বছর বয়সের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ন্যূনতম ৬ মাস বা তার বেশি বয়সের কোনো ভেড়া বা দুম্বা যদি হৃষ্টপুষ্টতার কারণে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। ৬ মাসের কম হলে জায়েয হবে না।

উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের  কম হলে তা দ্বারা কোনো অবস্থাতেই কুরবানী করা জায়েয হবে না।

সূত্র:-[ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬]

৪। উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। অর্থাৎ কুরবানীর পশুতে এক সপ্তমাংশ বা এর অধিক যে কোনো অংশে অংশীদার হওয়া জায়েয। এক্ষেত্রে ভগ্নাংশ  যেমন, দেড় ভাগ, আড়াই ভাগ, সাড়ে তিন ভাগ হলেও কোনো সমস্যা নেই।

 সূত্র:-[বাদায়েউস সানায়ে৪/২০৭]

৫। কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ: কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকীকার নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই সহীহ হবে। 

সূত্র:-[হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২]

৬। রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী: এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়।

সূত্র:-[জামে তিরমিযী ১/২৭৫; আলমগীরী ৫/২৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪]

৭। দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী: গরু-ছাগলের অধিকাংশ দাঁত না থাকলেও যে কয়টি দাঁত আছে তা দ্বারা যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে তবে সেটি দ্বারা কুরবানী সহীহ। কিন্তু দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারে তবে ঐ পশু কুরবানী করা যাবে না। সূত্র:-[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫; ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/২৯৮]

৮। যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে:যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। কিন্তু শিং ভাঙ্গার কারণে মস্তিষ্কে যদি আঘাত না পৌঁছে তাহলে সেই পশু দ্বারা কুরবানী জায়েয। তাই যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি, সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। 

সূত্র:-[জামে তিরমিযী ১/২৭৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪; আলমগীরী ৫/২৯৭]

৯। কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী:যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের কম হয় তাহলে তার কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। 

সূত্র:-[জামে তিরমিযী ১/২৭৫; মুসনাদে আহমাদ ১/৬১০; ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৫২; আলমগীরী ৫/২৯৭-২৯৮]

১০। মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী: মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। 

সূত্র:-[মুসনাদে আহমাদ ১/১০৭, হাদীস ৮৪৫; ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; কাযীখান ৩/৩৫২]

১১। গোশত, চর্বি বিক্রি করা:কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে।

সূত্র:-[ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫; কাযীখান ৩/৩৫৪; আলমগীরী ৫/৩০১]

১২। জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া কুরবানীর গোশত খাওয়ানো:কুরবানীর পশুর

কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া জায়েয নয়। গোশতও পারিশ্রমিক হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদেরকেও গোশত খাওয়ানো যাবে। 

সূত্র:-[আহকামুল কুরআন জাস্সাস ৩/২৩৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/৩২৬]

পরিশেষে বলবো...আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কুরবানী করার তাওফীক দান করুন। সকল ভুল-ত্রুটি থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তা কবুল করুন- আমীন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ কুরবানী, কোরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানী, ঈদুল আযহা, কুরবানীর মাসআলা, কুরবানীর হুকুম, তাকওয়া, সুন্নাতে ইবরাহীমি, কুরবানীর পশুর বয়স, কুরবানীর অংশীদার, আকীকা ও কুরবানী, মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী, ইসলামিক নিবন্ধ, জিলহজ মাস, কুরবানীর নিয়ম, ওয়াজিব কুরবানী Qurbani, Eid ul Adha, Qurbani in Quran and Hadith, Qurbani Masala, Rules of Qurbani, Taqwa, Sunnah of Ibrahim, Animal for Qurbani, Sharing in Qurbani, Aqeeqah and Qurbani, Maulana Sheikh Milad Hossain Siddique, Islamic Article, Dhul Hijjah, Qurbani Rules, Wajib Qurbani

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


কোরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয় মাসআলা

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

মাওলানা শেখ মিলাদ হোসাইন সিদ্দিকী রচিত এবং সংকলিত "কোরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানী" বিষয়ক লেখাটি একটি অত্যন্ত চমৎকার, তথ্যবহুল ও রেফারেন্সযুক্ত নিবন্ধ। ইসলামে কুরবানীর গুরুত্ব, ইতিহাস, হুকুম এবং বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা অত্যন্ত সহজ ভাষায় এখানে ফুটে উঠেছে।

কুরবানীর সংজ্ঞা...

আরবী ‘কুরবান’ (قربان) শব্দটি ফারসী বা ঊর্দূতে ‘কুরবানী’ রূপে পরিচিত হয়েছে, যার অর্থ ‘নৈকট্য’। পারিভাষিক অর্থে  القُرْبَانُ مَا يُتَقَرَّبُ بِهِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى  

‘কুরবানী’ ঐ মাধ্যমকে বলা হয়, যার দ্বারা আল্লাহ্র নৈকট্য হাছিল হয়’। প্রচলিত অর্থে, ঈদুল আযহার দিন আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শারঈ তরীকায় যে পশু যবহ করা হয়, তাকে ‘কুরবানী’ বলা হয়’। সকালে রক্তিম সূর্য উপরে ওঠার সময়ে ‘কুরবানী’ করা হয় বলে এই দিনটিকে ‘ইয়াওমুল আযহা’ বলা হয়ে থাকে। যদিও কুরবানী সারাদিন ও পরের দু’দিন করা যায়।

★কোরআনের আলোকে কুরবানীর গুরুত্ব...

(ক) আল্লাহ বলেন,

وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ  

 ‘আর কুরবানীর পশু সমূহকে আমরা তোমাদের জন্য আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি। এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে’ (হজ্জ ২২/৩৬)।

(খ) আল্লাহ আরও বলেন

, وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ، وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ  

‘আর আমরা তার (অর্থাৎ ইসমাঈলের) পরিবর্তে যবহ করার জন্য দিলাম একটি মহান কুরবানী’। ‘এবং আমরা এটিকে (অর্থাৎ কুরবানীর এ প্রথাটিকে) পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিলাম’ (ছাফফাত ৩৭/১০৭-১০৮)।

(গ) আল্লাহ বলেন,

 فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ (الكوثر ২)-  

‘তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ছালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর’ (সূরা কাওছার ১০৮/২)। কাফির-মুশরিকরা তাদের দেব-দেবী ও বিভিন্ন কবর ও বেদীতে পূজা দেয় ও মূর্তির উদ্দেশ্যে কুরবানী করে থাকে। তার প্রতিবাদ স্বরূপ মুসলমানকে আল্লাহ্র জন্য ‘ছালাত আদায়ের ও তাঁর উদ্দেশ্যে কুরবানী করার’ হুকুম দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আযহার দিন প্রথমে আল্লাহ্র জন্য ঈদের ছালাত আদায় করতে হয়, অতঃপর তাঁর নামে কুরবানী করতে হয়। অনেক মুফাসসির এভাবেই আয়াতটির তাফসীর করেছেন।

★হাদিসের আলোকে কুরবানীর গুরুত্ব... 

আবু হুরায়রা (রা:) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেন,

مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةً وَلَمْ يُضَحِّ فَلاَ يَقْرِبَنَّ مُصَلاَّنَا رواه ابن ماجه بإسناد حسن-

অনুবাদ:‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়’। সূত্র:[ইবনু মাজাহ হা/৩১২৩]

এটি ইসলামের একটি ‘মহান নিদর্শন’ (شعار عظيم), যা ‘সুন্নাতে ইবরাহীমী’ হিসাবে রাসূলুল্লাহ (সা:) নিজে মদীনায় প্রতি বছর আদায় করেছেন এবং সাহাবীগণও নিয়মিতভাবে কুরবানী করেছেন। অতঃপর অবিরত ধারায় মুসলিম সামর্থ্যবানদের মধ্যে এটি চালু আছে। এটি কিতাব ও সুন্নাহ এবং ইজমায়ে উম্মত দ্বারা সুপ্রমাণিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর কুরবানী করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.বলেন-

أَقَامَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِالمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ يُضَحِّي كُلّ سَنَةٍ.

অনুবাদ:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় দশ বছর ছিলেন। প্রতি বছরই কুরবানী করেছেন। 

সূত্র:[জামে তিরমিযী,হা/১৫০৭]

★কুরবানীর উদ্দেশ্য...

মূল উদ্দেশ্য আল্লাহভীতি অর্জন করা। যাতে মানুষ এটা উপলব্ধি করে যে, আল্লাহ্র বিশেষ অনুগ্রহের কারণেই শক্তিশালী পশুগুলি তাদের মত দুর্বলদের অনুগত হয়েছে এবং তাদের গোশত, হাড়-হাড্ডি-মজ্জা ইত্যাদির মধ্যে তাদের জন্য রূযী নির্ধারিত হয়েছে। জাহেলী যুগের আরবরা আল্লাহ্র নৈকট্য হাছিলের অসীলা হিসাবে তাদের মূর্তির নামে কুরবানী করত। অতঃপর তার গোশতের কিছু অংশ মূর্তিগুলির মাথায় রাখত ও তার উপরে কিছু রক্ত ছিটিয়ে দিত। কেউবা উক্ত রক্ত কা‘বা গৃহের দেওয়ালে লেপন করত। মুসলমানদের কেউ কেউ অনুরূপ করার চিন্তা করলে নিম্নের আয়াতটি নাযিল হয়।

 আল্লাহ বলেন,

لَنْ يَّنَالَ اللهَ لُحُوْمُهَا وَلاَ دِمَاؤُهَا وَ لَكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ (الحج ৩৭)-

অর্থ:‘কুরবানীর পশুর গোশত বা রক্ত আল্লাহ্র নিকটে পৌঁছে না। বরং তাঁর নিকটে পৌঁছে কেবলমাত্র তোমাদের ‘তাক্বওয়া’ বা আল্লাহভীতি’ (হজ্জ ২২/৩৭)।

★কুরবানীর হুকুম কি?...

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসের আলোকে ইমাম আবু হানীফা রাহ. বলেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।

ইমাম রাবীয়াহ রাহ., আওযায়ী রাহ., লাইস ইবনে সা‘দ রাহ., ছাওরী রাহ., নাখায়ী রাহ. প্রমুখের অভিমতও অনুরূপ।

ইমাম মালেক রাহ.-এরও একটি মত এরূপ। তাছাড়া মুজাহিদ রাহ., মাকহূল রাহ. ও শা’বী রাহ. প্রমুখ থেকেও এমনটি বর্ণিত আছে। -সূত্র:[শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৭/৩০৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ১৩/৩৬০; ফাতাওয়াতাতারখানিয়া ১৭/৪০৩;]

সারকথা, কুরবানী ইসলামের শিআর এবং জরুরি ইবাদত। এতে ইমামদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই। ইখতিলাফ শুধু এতটুকু যে, অনেক ইমাম একে ওয়াজিব বলেন। আর আমাদের নিকট এই বক্তব্যের দলীলই শক্তিশালী। আর ইমাম শাফেয়ী রাহ.-সহ অনেক ফকীহ একে সুন্নত বলেন। তবে সুন্নত দ্বারা তাদের অনেকের উদ্দেশ্য সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। আর সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ জরুরি আমলেরই অন্তর্ভুক্ত।

নিম্নে কুরবানীর কিছু জরুরি মাসআলা পেশ করছি... 

১। কুরবানীর দিনগুলোতে (১০ যিলহজ্ব ফজর উদয়ের পর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত) কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।

২। যিলহজ্বের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানীর আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, মোচ, নাভীর নিচের পশম ইত্যাদি না কাটা। এটা মুস্তাহাব আমল।

আর যে ব্যক্তি কুরবানী করতে সক্ষম নয় সেও এ আমল করবে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটবে না; বরং তা কুরবানীর দিন কাটবে।

৩। কুরবানীর পশুর বয়সসীমা:

কুরবানীর জন্য উট কমপক্ষে ৫ বছর বয়সের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ন্যূনতম ৬ মাস বা তার বেশি বয়সের কোনো ভেড়া বা দুম্বা যদি হৃষ্টপুষ্টতার কারণে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। ৬ মাসের কম হলে জায়েয হবে না।

উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের  কম হলে তা দ্বারা কোনো অবস্থাতেই কুরবানী করা জায়েয হবে না।

সূত্র:-[ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬]

৪। উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। অর্থাৎ কুরবানীর পশুতে এক সপ্তমাংশ বা এর অধিক যে কোনো অংশে অংশীদার হওয়া জায়েয। এক্ষেত্রে ভগ্নাংশ  যেমন, দেড় ভাগ, আড়াই ভাগ, সাড়ে তিন ভাগ হলেও কোনো সমস্যা নেই।

 সূত্র:-[বাদায়েউস সানায়ে৪/২০৭]

৫। কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ: কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকীকার নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই সহীহ হবে। 

সূত্র:-[হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২]

৬। রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী: এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়।

সূত্র:-[জামে তিরমিযী ১/২৭৫; আলমগীরী ৫/২৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪]

৭। দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী: গরু-ছাগলের অধিকাংশ দাঁত না থাকলেও যে কয়টি দাঁত আছে তা দ্বারা যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে তবে সেটি দ্বারা কুরবানী সহীহ। কিন্তু দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারে তবে ঐ পশু কুরবানী করা যাবে না। সূত্র:-[বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫; ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/২৯৮]

৮। যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে:যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। কিন্তু শিং ভাঙ্গার কারণে মস্তিষ্কে যদি আঘাত না পৌঁছে তাহলে সেই পশু দ্বারা কুরবানী জায়েয। তাই যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি, সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। 

সূত্র:-[জামে তিরমিযী ১/২৭৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪; আলমগীরী ৫/২৯৭]

৯। কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী:যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের কম হয় তাহলে তার কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। 

সূত্র:-[জামে তিরমিযী ১/২৭৫; মুসনাদে আহমাদ ১/৬১০; ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৫২; আলমগীরী ৫/২৯৭-২৯৮]

১০। মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী: মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। 

সূত্র:-[মুসনাদে আহমাদ ১/১০৭, হাদীস ৮৪৫; ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; কাযীখান ৩/৩৫২]

১১। গোশত, চর্বি বিক্রি করা:কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে।

সূত্র:-[ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫; কাযীখান ৩/৩৫৪; আলমগীরী ৫/৩০১]

১২। জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া কুরবানীর গোশত খাওয়ানো:কুরবানীর পশুর

কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া জায়েয নয়। গোশতও পারিশ্রমিক হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদেরকেও গোশত খাওয়ানো যাবে। 

সূত্র:-[আহকামুল কুরআন জাস্সাস ৩/২৩৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/৩২৬]

পরিশেষে বলবো...আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কুরবানী করার তাওফীক দান করুন। সকল ভুল-ত্রুটি থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তা কবুল করুন- আমীন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত