নজর বিডি

ঈদুল আজহার দিন পূর্ণ সওয়াব লাভের আমল

ঈদুল আজহার দিন পূর্ণ সওয়াব লাভের আমল

মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এক আনন্দের দিন ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই বিশেষ দিনটি কেবলই উৎসবের নয়, বরং মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সওয়াব অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন বেশ কিছু আমল করতেন, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য সুন্নাত। এই সুন্নাতগুলো যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে ইবাদতে পরিণত করা এবং পূর্ণ সওয়াব লাভ করা সম্ভব।

ঈদুল আজহার দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত আমলগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১. ভোরে ঘুম থেকে ওঠা ও পবিত্রতা অর্জন

ঈদের দিন দ্রুত ঘুম থেকে ওঠা সুন্নাত। এরপর মেসওয়াক করা এবং সুন্নাত পদ্ধতিতে গোসল করে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। ঈদের দিনে পরিচ্ছন্নতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

২. উত্তম পোশাক পরিধান করা

ঈদের খুশির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে ভালো ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা সুন্নাত। ঈদের দিনের পোশাক নতুন হতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে তা মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন হওয়া জরুরি।

৩. সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার

ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা সুন্নাত। সুগন্ধ চারপাশের পরিবেশকে স্নিগ্ধ ও আনন্দময় রাখতে সাহায্য করে।

৪. কোরবানির আগে কিছু না খাওয়া (উপবাস)

ঈদুল ফিতরে কিছু মিষ্টিমুখ করে ঈদগাহে যাওয়ার সুন্নাত থাকলেও ঈদুল আজহার নিয়মটি ভিন্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল আজহার দিন নামাজের আগে কিছু খেতেন না। নামাজ শেষে নিজের কোরবানির পশুর গোশত দিয়ে প্রথম খাবার গ্রহণ করা সুন্নাত।

৫. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া

কোনো শারীরিক অক্ষমতা বা বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত পায়ে হেঁটেই ঈদগাহে যাতায়াত করতেন।

৬. উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করা

ঈদুল আজহার দিন সকাল থেকে বাসা থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছানো পর্যন্ত উচ্চস্বরে তাকবীরে তাশরিক পাঠ করা সুন্নাত।

তাকবির: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

৭. যাতায়াতের রাস্তা পরিবর্তন করা

ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক রাস্তা ব্যবহার করা এবং নামাজ শেষে ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরা একটি বিশেষ সুন্নাত। এর ফলে কিয়ামতের দিন উভয় রাস্তা ইবাদতের সাক্ষী হয়ে থাকবে এবং বেশি সংখ্যক মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।

৮. খোলা ময়দানে বা ঈদগাহে নামাজ আদায়

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া মসজিদে ঈদের নামাজ না পড়ে, খোলা ময়দান বা ঈদগাহে নামাজ আদায় করা সুন্নাত।

৯. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ঈদের নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা ও দোয়া বিনিময় করা। সাহাবায়ে কেরামরা সাধারণত ঈদের দিন একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলতেন— ‘তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনার নেক আমল ও ইবাদতগুলো কবুল করুন)।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ঈদুল আজহার দিন পূর্ণ সওয়াব লাভের আমল

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এক আনন্দের দিন ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই বিশেষ দিনটি কেবলই উৎসবের নয়, বরং মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সওয়াব অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন বেশ কিছু আমল করতেন, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য সুন্নাত। এই সুন্নাতগুলো যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে ইবাদতে পরিণত করা এবং পূর্ণ সওয়াব লাভ করা সম্ভব।

ঈদুল আজহার দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত আমলগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১. ভোরে ঘুম থেকে ওঠা ও পবিত্রতা অর্জন

ঈদের দিন দ্রুত ঘুম থেকে ওঠা সুন্নাত। এরপর মেসওয়াক করা এবং সুন্নাত পদ্ধতিতে গোসল করে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। ঈদের দিনে পরিচ্ছন্নতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

২. উত্তম পোশাক পরিধান করা

ঈদের খুশির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে ভালো ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা সুন্নাত। ঈদের দিনের পোশাক নতুন হতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে তা মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন হওয়া জরুরি।

৩. সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার

ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা সুন্নাত। সুগন্ধ চারপাশের পরিবেশকে স্নিগ্ধ ও আনন্দময় রাখতে সাহায্য করে।

৪. কোরবানির আগে কিছু না খাওয়া (উপবাস)

ঈদুল ফিতরে কিছু মিষ্টিমুখ করে ঈদগাহে যাওয়ার সুন্নাত থাকলেও ঈদুল আজহার নিয়মটি ভিন্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল আজহার দিন নামাজের আগে কিছু খেতেন না। নামাজ শেষে নিজের কোরবানির পশুর গোশত দিয়ে প্রথম খাবার গ্রহণ করা সুন্নাত।

৫. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া

কোনো শারীরিক অক্ষমতা বা বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত পায়ে হেঁটেই ঈদগাহে যাতায়াত করতেন।

৬. উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করা

ঈদুল আজহার দিন সকাল থেকে বাসা থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছানো পর্যন্ত উচ্চস্বরে তাকবীরে তাশরিক পাঠ করা সুন্নাত।

তাকবির: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

৭. যাতায়াতের রাস্তা পরিবর্তন করা

ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক রাস্তা ব্যবহার করা এবং নামাজ শেষে ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরা একটি বিশেষ সুন্নাত। এর ফলে কিয়ামতের দিন উভয় রাস্তা ইবাদতের সাক্ষী হয়ে থাকবে এবং বেশি সংখ্যক মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।

৮. খোলা ময়দানে বা ঈদগাহে নামাজ আদায়

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া মসজিদে ঈদের নামাজ না পড়ে, খোলা ময়দান বা ঈদগাহে নামাজ আদায় করা সুন্নাত।

৯. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

ঈদের নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা ও দোয়া বিনিময় করা। সাহাবায়ে কেরামরা সাধারণত ঈদের দিন একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলতেন— ‘তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনার নেক আমল ও ইবাদতগুলো কবুল করুন)।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত