কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে চামড়া খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, “সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ, ব্যবসায়ী-আড়তদারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মসজিদ-মাদরাসাভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এবারের কোরবানির অধিকাংশ চামড়া শতভাগ ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “গতকাল আমিনবাজার এবং আজ পোস্তা ও সাভারের হেমায়েতপুর আড়ত পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি ব্যবসায়ীদের হাতে বিপুল পরিমাণ চামড়া এসেছে এবং সেখানে দ্রুত লবণ মাখানোর কার্যক্রম চলছে। কোরবানির সব চামড়া একসাথে ঢাকায় আসে না; স্বাভাবিকভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তবে এবার সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, বিসিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।”
চামড়া সংরক্ষণে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকায় পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোরবানির চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে পরিষ্কার করে লবণ মাখাতে পারলে সেই চামড়া তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত অনায়াসে সংরক্ষণ করা সম্ভব।”
তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করে বলেন, “কাঁচা চামড়া থেকে প্রথমে ‘ওয়েট ব্লু’, এরপর ‘ক্রাস্ট লেদার’ এবং সবশেষে ‘ফিনিশড লেদার’ তৈরি হয়। সেই চামড়া দিয়েই পরবর্তীতে জুতা, স্যান্ডেল, বেল্টসহ বিভিন্ন বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই সময়মতো লবণ না মাখালে সেই কাঁচা চামড়ার কোনো বাণিজ্যিক বা ব্যবহারিক মূল্য থাকে না।”
চামড়া পাচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রতিবছর চামড়া পাচারের নানা অভিযোগ শোনা যায়। আমরা চাই না দেশের একটি চামড়াও অবৈধভাবে বাইরে পাচার হোক। সীমান্তসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ও সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) প্রসঙ্গে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, “হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পরও অনেক ট্যানারি এখনও পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। সিইটিপির কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো দ্রুত সমাধান করে আরও বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারলে দেশের সব চামড়াকে টেকসই শিল্পায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
তিনি জানান, বর্তমানে সিইটিপির প্রকল্পগত সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জরুরি উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর কাজটি আরও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও মেকানাইজড (যান্ত্রিকীকরণ) করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চামড়াজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাজার মিলে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও চামড়াজাত পণ্যের একটি বিশাল বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।
চামড়া আড়ত পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুল রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, বিসিকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, চামড়া শিল্প, কোরবানির চামড়া, পোস্তা চামড়া আড়ত, সাভার ট্যানারি, চামড়া পাচার রোধ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিক Khondoker Abdul Muktadir, Leather Industry, Qurbani Raw Hide, Posta Leather Market, Savar Tannery, CETP Savar, Ministry of Commerce, BSCIC, Leather Export Bangladesh

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে চামড়া খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, “সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ, ব্যবসায়ী-আড়তদারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মসজিদ-মাদরাসাভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এবারের কোরবানির অধিকাংশ চামড়া শতভাগ ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “গতকাল আমিনবাজার এবং আজ পোস্তা ও সাভারের হেমায়েতপুর আড়ত পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি ব্যবসায়ীদের হাতে বিপুল পরিমাণ চামড়া এসেছে এবং সেখানে দ্রুত লবণ মাখানোর কার্যক্রম চলছে। কোরবানির সব চামড়া একসাথে ঢাকায় আসে না; স্বাভাবিকভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তবে এবার সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, বিসিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।”
চামড়া সংরক্ষণে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকায় পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোরবানির চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে পরিষ্কার করে লবণ মাখাতে পারলে সেই চামড়া তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত অনায়াসে সংরক্ষণ করা সম্ভব।”
তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করে বলেন, “কাঁচা চামড়া থেকে প্রথমে ‘ওয়েট ব্লু’, এরপর ‘ক্রাস্ট লেদার’ এবং সবশেষে ‘ফিনিশড লেদার’ তৈরি হয়। সেই চামড়া দিয়েই পরবর্তীতে জুতা, স্যান্ডেল, বেল্টসহ বিভিন্ন বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই সময়মতো লবণ না মাখালে সেই কাঁচা চামড়ার কোনো বাণিজ্যিক বা ব্যবহারিক মূল্য থাকে না।”
চামড়া পাচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রতিবছর চামড়া পাচারের নানা অভিযোগ শোনা যায়। আমরা চাই না দেশের একটি চামড়াও অবৈধভাবে বাইরে পাচার হোক। সীমান্তসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ও সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) প্রসঙ্গে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, “হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পরও অনেক ট্যানারি এখনও পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। সিইটিপির কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো দ্রুত সমাধান করে আরও বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারলে দেশের সব চামড়াকে টেকসই শিল্পায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
তিনি জানান, বর্তমানে সিইটিপির প্রকল্পগত সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জরুরি উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর কাজটি আরও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও মেকানাইজড (যান্ত্রিকীকরণ) করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চামড়াজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাজার মিলে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও চামড়াজাত পণ্যের একটি বিশাল বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।
চামড়া আড়ত পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুল রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, বিসিকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন