শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সদ্য বিদায়ী কমিশনের আমলে গেজেট হওয়া মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ও মার্জিন রুলস বিধিমালা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)।
শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এবং বাজারের বিপর্যয় রোধে বিএসইসির নতুন কমিশনের কাছে এই দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব দাবি উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিএমআইএ সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক শামিম ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মিউচুয়াল ফান্ড খাত নিয়ে নতুন বিধিমালা জারির মাধ্যমে এই সম্ভাবনাময় খাতটিকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এই আত্মঘাতী বিধিমালার কারণে এ খাতের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত তৈরি হয়েছে, যা আগামী ১ বছরের মধ্যে পুরো শেয়ারবাজারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
এ অবস্থায় মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা নামের এই কালো আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং বিদায়ী মাকসুদ কমিশনকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে বিতর্কিত কর্মকর্তারা যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বিসিএমআইএ সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, "নতুন বিধিমালার আওতায় বিদ্যমান মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে জোর করে অবসায়ন (লিকুইডেশন) প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নামবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা চিরতরে নষ্ট হবে।
তাছাড়া এ খাতের সাথে জড়িত হাজার হাজার কর্মী বেকার হয়ে পড়বে। এই খাতের ৩ লাখ বিনিয়োগকারী কখনোই এই জোরপূর্বক অবসায়ন চায় না।"
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, নতুন আইনে বলা হয়েছে— দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারহোল্ডারদের ভোটে মেয়াদি ফান্ডগুলোর রূপান্তর বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু যারা ফান্ডগুলো টিকিয়ে রাখার পক্ষে মত দেবেন, তাদের জন্য কোনো বিকল্প রাখা হয়নি।
এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে তাদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো শেয়ারবাজারে অতীতের সব অনিয়ম, কারসাজি ও ব্যর্থতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা।
সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন। একীভূত (মার্জার) করা ৫টি ব্যাংকের বিনিয়োগকারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানির পুনর্গঠন এবং ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত বাস্তবায়ন।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিএমআইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নতুন কমিশনের কাছে আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো— একীভূত হওয়ার নামে যে পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, তার দ্রুত যৌক্তিক সমাধান করা।
ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন পুনরায় চালু করা হোক অথবা শেয়ারহোল্ডারদের নতুন ব্যাংকের শেয়ার দেওয়া হোক। মাকসুদ কমিশন পুঁজিবাজারে যে নজিরবিহীন ক্ষতি করেছে, তার জন্য খন্দকার মাকসুদ আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত এবং তিনি যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সরকারকে সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
পাশাপাশি বন্ধ থাকা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সদ্য বিদায়ী কমিশনের আমলে গেজেট হওয়া মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ও মার্জিন রুলস বিধিমালা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)।
শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এবং বাজারের বিপর্যয় রোধে বিএসইসির নতুন কমিশনের কাছে এই দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব দাবি উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিএমআইএ সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক শামিম ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মিউচুয়াল ফান্ড খাত নিয়ে নতুন বিধিমালা জারির মাধ্যমে এই সম্ভাবনাময় খাতটিকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এই আত্মঘাতী বিধিমালার কারণে এ খাতের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত তৈরি হয়েছে, যা আগামী ১ বছরের মধ্যে পুরো শেয়ারবাজারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
এ অবস্থায় মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা নামের এই কালো আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং বিদায়ী মাকসুদ কমিশনকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে বিতর্কিত কর্মকর্তারা যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বিসিএমআইএ সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, "নতুন বিধিমালার আওতায় বিদ্যমান মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে জোর করে অবসায়ন (লিকুইডেশন) প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নামবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা চিরতরে নষ্ট হবে।
তাছাড়া এ খাতের সাথে জড়িত হাজার হাজার কর্মী বেকার হয়ে পড়বে। এই খাতের ৩ লাখ বিনিয়োগকারী কখনোই এই জোরপূর্বক অবসায়ন চায় না।"
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, নতুন আইনে বলা হয়েছে— দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারহোল্ডারদের ভোটে মেয়াদি ফান্ডগুলোর রূপান্তর বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু যারা ফান্ডগুলো টিকিয়ে রাখার পক্ষে মত দেবেন, তাদের জন্য কোনো বিকল্প রাখা হয়নি।
এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে তাদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো শেয়ারবাজারে অতীতের সব অনিয়ম, কারসাজি ও ব্যর্থতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা।
সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন। একীভূত (মার্জার) করা ৫টি ব্যাংকের বিনিয়োগকারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানির পুনর্গঠন এবং ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত বাস্তবায়ন।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিএমআইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নতুন কমিশনের কাছে আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো— একীভূত হওয়ার নামে যে পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, তার দ্রুত যৌক্তিক সমাধান করা।
ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন পুনরায় চালু করা হোক অথবা শেয়ারহোল্ডারদের নতুন ব্যাংকের শেয়ার দেওয়া হোক। মাকসুদ কমিশন পুঁজিবাজারে যে নজিরবিহীন ক্ষতি করেছে, তার জন্য খন্দকার মাকসুদ আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত এবং তিনি যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সরকারকে সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
পাশাপাশি বন্ধ থাকা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন