ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী অবস্থান নিয়েছেন।
গতকাল শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে তিনি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, টিসিবির পণ্য নিয়ে দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দল পরিচালনানীতি নিয়ে অত্যন্ত গঠনমূলক ও স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন।
নির্বাচনের আগে ও পরে সংবাদকর্মীদের সাথে সংসদ সদস্যের এমন নিয়মিত মতবিনিময় সভাকে ঢাকা-৪ আসনের ইতিহাসে বিরল বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বক্তব্যের শুরুতেই ঢাকা-৪ আসনের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা ও খাল খনন নিয়ে আলোকপাত করেন সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো খাল খনন। তবে এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর করতে নতুন বাজেটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আমি প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে কথা বলব।" সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে তার সজাগ দৃষ্টি রয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
সরকারের চলমান 'ফ্যামিলি কার্ড' ব্যবস্থার আংশিক সমালোচনা করে তিনি একটি ভিন্নধর্মী প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি মনে করেন, সাময়িক ত্রাণ সহায়তার চেয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ ও স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান নিয়ে যে অঙ্গীকার ছিল, তা একটি সময়োপযোগী চিন্তা। মানুষের হাতে শুধু খাবার না দিয়ে কাজ দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
একই সাথে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, "জামায়াতে ইসলামী সংগঠনটি পরিচালিত হয় সম্পূর্ণ তাদের নিজেদের অর্থায়নে। তাদের যে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন—তারা ব্যবসায়ী কিংবা চাকরিজীবী যাই হোন না কেন, প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট নিয়মে সংগঠনে অবদান রাখেন।
ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক লাভের ৫% (পাঁচ শতাংশ) এবং চাকরিজীবীরাও তাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়মিত ফান্ডে জমা দেন। এই নিজস্ব তহবিল থেকেই তারা পরবর্তীতে বড় বড় জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং দুস্থ-দরিদ্র মানুষের মাঝে নিয়মিত ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণ করে থাকে।" দল পরিচালনায় এমন অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-৪ এর বিভিন্ন ফুটপাতে চলমান চাঁদাবাজি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। পাশাপাশি ওএমএস (OMS) ও টিসিবি (TCB) ডিলারদের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "গরিবের হক মেরে যারা টিসিবির পণ্য বাজারে পাইকারি বিক্রি করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সাহস জুগিয়ে এমপি বলেন, "আপনাদের কলম যেন সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে চলে। আমার দলের কোনো লোক যদি দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধেও লিখতে দ্বিধা করবেন না। ঢাকা-৪ এর উন্নয়ন এবং অনিয়মমুক্ত সমাজ গড়তে আপনাদের তথ্যবহুল লেখনী আমার শক্তি হিসেবে কাজ করবে।"
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা এমপির এই সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্যকে স্বাগত জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের সাথে এই সুদৃঢ় মিলবন্ধন এলাকার জনস্বার্থ রক্ষা, অপশাসন ও অপরাধ দমনে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী অবস্থান নিয়েছেন।
গতকাল শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে তিনি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, টিসিবির পণ্য নিয়ে দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দল পরিচালনানীতি নিয়ে অত্যন্ত গঠনমূলক ও স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন।
নির্বাচনের আগে ও পরে সংবাদকর্মীদের সাথে সংসদ সদস্যের এমন নিয়মিত মতবিনিময় সভাকে ঢাকা-৪ আসনের ইতিহাসে বিরল বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বক্তব্যের শুরুতেই ঢাকা-৪ আসনের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা ও খাল খনন নিয়ে আলোকপাত করেন সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো খাল খনন। তবে এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর করতে নতুন বাজেটের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আমি প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে কথা বলব।" সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে তার সজাগ দৃষ্টি রয়েছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
সরকারের চলমান 'ফ্যামিলি কার্ড' ব্যবস্থার আংশিক সমালোচনা করে তিনি একটি ভিন্নধর্মী প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি মনে করেন, সাময়িক ত্রাণ সহায়তার চেয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ ও স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান নিয়ে যে অঙ্গীকার ছিল, তা একটি সময়োপযোগী চিন্তা। মানুষের হাতে শুধু খাবার না দিয়ে কাজ দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
একই সাথে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, "জামায়াতে ইসলামী সংগঠনটি পরিচালিত হয় সম্পূর্ণ তাদের নিজেদের অর্থায়নে। তাদের যে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন—তারা ব্যবসায়ী কিংবা চাকরিজীবী যাই হোন না কেন, প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট নিয়মে সংগঠনে অবদান রাখেন।
ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক লাভের ৫% (পাঁচ শতাংশ) এবং চাকরিজীবীরাও তাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়মিত ফান্ডে জমা দেন। এই নিজস্ব তহবিল থেকেই তারা পরবর্তীতে বড় বড় জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং দুস্থ-দরিদ্র মানুষের মাঝে নিয়মিত ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণ করে থাকে।" দল পরিচালনায় এমন অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-৪ এর বিভিন্ন ফুটপাতে চলমান চাঁদাবাজি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। পাশাপাশি ওএমএস (OMS) ও টিসিবি (TCB) ডিলারদের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "গরিবের হক মেরে যারা টিসিবির পণ্য বাজারে পাইকারি বিক্রি করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সাহস জুগিয়ে এমপি বলেন, "আপনাদের কলম যেন সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে চলে। আমার দলের কোনো লোক যদি দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধেও লিখতে দ্বিধা করবেন না। ঢাকা-৪ এর উন্নয়ন এবং অনিয়মমুক্ত সমাজ গড়তে আপনাদের তথ্যবহুল লেখনী আমার শক্তি হিসেবে কাজ করবে।"
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা এমপির এই সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্যকে স্বাগত জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের সাথে এই সুদৃঢ় মিলবন্ধন এলাকার জনস্বার্থ রক্ষা, অপশাসন ও অপরাধ দমনে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন