জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা একজন ভুক্তভোগী নারীর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করে প্রেস রিলিজ দেওয়া সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা প্রচার চালিয়েছে।
তারা কথায় কথায় ইসলামের কথা বলে, নারীর অধিকার ও সম্মানের কথা বলে, কিন্তু তাদের আসল চরিত্র তাদের কৃতকর্মের মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়ে যায়।’
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ দাবি করা ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ জুন (শনিবার) রাতে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
শনিবার রাতের ওই বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এ সময় তাদেরকে ‘মুনাফেকি আর ভণ্ডামি চলবে না, চলবে না’; ‘ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’; ‘আমির থেকে সমর্থক, সব... ধর্ষক’ ইত্যাদি ঝাঁঝালো স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নির্বাচিত এমপিরাসহ শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা একটি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে যে—দেশে নাকি আবারও গুমের সংস্কৃতি পুনরায় চালু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিগত দুটি বছর যারা বিভিন্ন স্থানে মবকে উস্কে দিয়েছে, সশরীরে মবের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে অব্যাহত প্রোপাগান্ডা, মিথ্যাচার ও নোংরামি ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা যেভাবে ধর্ষণের মতো একটি অপরাধ আড়াল করতে গুমের নাটক সাজিয়ে রাষ্ট্রীয় অপরাধকে নরমালাইজ করতে চাচ্ছে, তাতে আমরা শঙ্কিত। এর মাধ্যমে খুনি হাসিনার আমলে আমাদের যে শত শত ছাত্রদল নেতা সত্যিকার অর্থে গুমের শিকার হয়েছে, সেটিকে চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অপমান করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক ও অনলাইন গ্রুপ-পেইজগুলো দখল করে উগ্র প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে তারা। আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনারা কি আসলেই ইসলামের নামে রাজনীতি করেন? সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইনের মাধ্যমে তারা যে নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে, তার সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ।’
সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, কুমিল্লাতে যে ধর্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, সেই ধর্ষকের নাম আমরা কিন্তু ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো প্রকাশ্য কমিটিতে দেখি নাই। তারা মূলত গুপ্ত কমিটি দিয়ে সংগঠন চালায় এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করে নাই।
তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, প্রেম করার অপরাধে নাকি সেই ধর্ষক জিসানকে তারা সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু আমরা মনে করি, তারা ধর্ষণ এবং ভ্রূণ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের কোনো বিচার বা অনুশোচনা করেনি। উল্টো গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতে ফ্যাসিবাদের আমলে সংঘটিত প্রকৃত গুমের ঘটনাগুলোকে অপমান-অপদস্থ করেছে।’
জামায়াত আমিরের সমালোচনা করে নাসির বলেন, ‘যখনই কোনো ঘটনা ঘটে, জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে গুমের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে পোস্ট দেন। যার সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান ও রাজনৈতিক সীমারেখা এত নিচে, তিনি কীভাবে জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের আমির হতে পারেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। গত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে যত ধরনের গুজব ও রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার অধিকাংশই ছড়িয়েছেন খোদ জামায়াতের আমির।’
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাসির উদ্দিন নাসির, জিসান মিয়া প্রধান, ছাত্র রাজনীতি, প্রতিবাদ সমাবেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় Jatiyatabadi Chhatra Dal, Islami Chhatra Shibir, Rakibul Islam Rakib, Nasir Uddin Nasir, Jisan Miah Prodhan, Student Politics Bangladesh, Shahbag Protest, DU News

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা একজন ভুক্তভোগী নারীর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করে প্রেস রিলিজ দেওয়া সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা প্রচার চালিয়েছে।
তারা কথায় কথায় ইসলামের কথা বলে, নারীর অধিকার ও সম্মানের কথা বলে, কিন্তু তাদের আসল চরিত্র তাদের কৃতকর্মের মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়ে যায়।’
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ দাবি করা ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ জুন (শনিবার) রাতে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
শনিবার রাতের ওই বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এ সময় তাদেরকে ‘মুনাফেকি আর ভণ্ডামি চলবে না, চলবে না’; ‘ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’; ‘আমির থেকে সমর্থক, সব... ধর্ষক’ ইত্যাদি ঝাঁঝালো স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নির্বাচিত এমপিরাসহ শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা একটি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে যে—দেশে নাকি আবারও গুমের সংস্কৃতি পুনরায় চালু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিগত দুটি বছর যারা বিভিন্ন স্থানে মবকে উস্কে দিয়েছে, সশরীরে মবের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে অব্যাহত প্রোপাগান্ডা, মিথ্যাচার ও নোংরামি ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা যেভাবে ধর্ষণের মতো একটি অপরাধ আড়াল করতে গুমের নাটক সাজিয়ে রাষ্ট্রীয় অপরাধকে নরমালাইজ করতে চাচ্ছে, তাতে আমরা শঙ্কিত। এর মাধ্যমে খুনি হাসিনার আমলে আমাদের যে শত শত ছাত্রদল নেতা সত্যিকার অর্থে গুমের শিকার হয়েছে, সেটিকে চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অপমান করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক ও অনলাইন গ্রুপ-পেইজগুলো দখল করে উগ্র প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে তারা। আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনারা কি আসলেই ইসলামের নামে রাজনীতি করেন? সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইনের মাধ্যমে তারা যে নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে, তার সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ।’
সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, কুমিল্লাতে যে ধর্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, সেই ধর্ষকের নাম আমরা কিন্তু ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো প্রকাশ্য কমিটিতে দেখি নাই। তারা মূলত গুপ্ত কমিটি দিয়ে সংগঠন চালায় এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করে নাই।
তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, প্রেম করার অপরাধে নাকি সেই ধর্ষক জিসানকে তারা সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু আমরা মনে করি, তারা ধর্ষণ এবং ভ্রূণ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের কোনো বিচার বা অনুশোচনা করেনি। উল্টো গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতে ফ্যাসিবাদের আমলে সংঘটিত প্রকৃত গুমের ঘটনাগুলোকে অপমান-অপদস্থ করেছে।’
জামায়াত আমিরের সমালোচনা করে নাসির বলেন, ‘যখনই কোনো ঘটনা ঘটে, জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে গুমের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে পোস্ট দেন। যার সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান ও রাজনৈতিক সীমারেখা এত নিচে, তিনি কীভাবে জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের আমির হতে পারেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। গত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে যত ধরনের গুজব ও রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার অধিকাংশই ছড়িয়েছেন খোদ জামায়াতের আমির।’

আপনার মতামত লিখুন