নজর বিডি

এগারো মাস কারারুদ্ধ জীবন ও দিনবদলের সনদের খসড়া প্রণয়ন

এগারো মাস কারারুদ্ধ জীবন ও দিনবদলের সনদের খসড়া প্রণয়ন

সত্য চিরন্তন, সত্যকে কখনো মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। মিথ্যা দিয়ে সাময়িক সত্যকে চাপা দিলেও যথাসময়ে সেই সত্য মিথ্যাকে ভেদ করে আরও বেশি বিকশিত হয়। বাঙালি জাতি চির দুর্বার, চির দুর্মর। যুগে যুগে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে, যার প্রমাণ তারা ১/১১-র প্রেক্ষাপটে দেখিয়েছে।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ধানমন্ডির নিজ বাসভবন 'সুধাসদন' থেকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে তাঁর মুক্তির মধ্য দিয়ে হয়েছিল সত্যের জয়। ওই দিনটি ছিল মূলত অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার দিন। জননেত্রী শেখ হাসিনার সেই মুক্তি কেবল একজন নেত্রীর মুক্তি ছিল না, তা ছিল অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের শৃঙ্খল মোচনের প্রতীক।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের সুশীল সমাজের তথাকথিত কিছু ব্যক্তি, সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল। তারা নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে নিজেদের পছন্দমতো ইয়াজউদ্দিন মার্কা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। অথচ যিনি গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের ভাত ও কাপড়ের জন্য, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, সেই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে তারা মূলত বাংলাদেশের গণতন্ত্রকেই গ্রেপ্তার করেছিল।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে যৌথবাহিনী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

জেলে বন্দি অবস্থায় শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিন স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত কান ও চোখ চিকিৎসার অভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্লো-পয়জনিং করা হচ্ছে বলেও আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৮ সালের ৩১ মার্চ আদালতে হাজিরা দিতে নেওয়া হলে আইনজীবীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন:

"২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু পারেনি। এখন বিনাচিকিৎসায় মারার চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালে সন্তানসম্ভবা ছিলাম, পাকিস্তানিরা মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন কারও সাথে দেখা করতে দেয়নি। এখন এরা চিকিৎসাসেবা ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না। আমার ওপর যে অবিচার করা হয়েছে, তার ভার আমি আল্লাহ ও জনগণের ওপর দিচ্ছি।"

একপর্যায়ে তাঁর অসুস্থতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েও দেশ ও জনতার কথা ভুলে যাননি নেত্রী। ২০০৭ সালের আগস্ট মাসে দেশজুড়ে ভয়াবহ বন্যা এবং নভেম্বর মাসে সিডরের আঘাতে উপকূলবর্তী অঞ্চল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলে নির্জন কারাগার থেকেই দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা পাঠান তিনি। ২০০৮ সালের মে মাসে দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

কারাবাসের সেই দুঃসহ দিনগুলোতে কোনো ভয়ভীতি বা প্রলোভন দিয়ে শেখ হাসিনাকে পরাভূত করা যায়নি। বিশেষ কারাগারের সেই নির্জনতায় বাংলার জনগণের ওপর অগাধ আস্থা, বিশ্বাস আর আকাশসম ভালোবাসা নিয়ে তিনি রচনা করেছিলেন দেশ আর মানুষের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যতের পথরেখা— আমাদের ‘দিনবদলের সনদের’ খসড়া

বাংলাদেশে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকলেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আন্দোলন এবং প্রবাসের মাটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্রমাগত আন্দোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জনমত গঠিত হয়। প্রবাসী কমিউনিটি নেতাদের উদ্যোগে ব্রিটিশ এমপি, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট মেম্বারসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের লবিং ও ক্রমাগত চাপের মুখে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের ১১ জুন তাঁর মুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র।

১৯৮১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বহুধা বিভক্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে মাত্র

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


এগারো মাস কারারুদ্ধ জীবন ও দিনবদলের সনদের খসড়া প্রণয়ন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

সত্য চিরন্তন, সত্যকে কখনো মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। মিথ্যা দিয়ে সাময়িক সত্যকে চাপা দিলেও যথাসময়ে সেই সত্য মিথ্যাকে ভেদ করে আরও বেশি বিকশিত হয়। বাঙালি জাতি চির দুর্বার, চির দুর্মর। যুগে যুগে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে, যার প্রমাণ তারা ১/১১-র প্রেক্ষাপটে দেখিয়েছে।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ধানমন্ডির নিজ বাসভবন 'সুধাসদন' থেকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে তাঁর মুক্তির মধ্য দিয়ে হয়েছিল সত্যের জয়। ওই দিনটি ছিল মূলত অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার দিন। জননেত্রী শেখ হাসিনার সেই মুক্তি কেবল একজন নেত্রীর মুক্তি ছিল না, তা ছিল অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের শৃঙ্খল মোচনের প্রতীক।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের সুশীল সমাজের তথাকথিত কিছু ব্যক্তি, সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল। তারা নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে নিজেদের পছন্দমতো ইয়াজউদ্দিন মার্কা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। অথচ যিনি গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের ভাত ও কাপড়ের জন্য, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, সেই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে তারা মূলত বাংলাদেশের গণতন্ত্রকেই গ্রেপ্তার করেছিল।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে যৌথবাহিনী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

জেলে বন্দি অবস্থায় শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিন স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত কান ও চোখ চিকিৎসার অভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্লো-পয়জনিং করা হচ্ছে বলেও আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৮ সালের ৩১ মার্চ আদালতে হাজিরা দিতে নেওয়া হলে আইনজীবীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন:

"২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু পারেনি। এখন বিনাচিকিৎসায় মারার চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালে সন্তানসম্ভবা ছিলাম, পাকিস্তানিরা মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন কারও সাথে দেখা করতে দেয়নি। এখন এরা চিকিৎসাসেবা ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না। আমার ওপর যে অবিচার করা হয়েছে, তার ভার আমি আল্লাহ ও জনগণের ওপর দিচ্ছি।"

একপর্যায়ে তাঁর অসুস্থতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে গেলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েও দেশ ও জনতার কথা ভুলে যাননি নেত্রী। ২০০৭ সালের আগস্ট মাসে দেশজুড়ে ভয়াবহ বন্যা এবং নভেম্বর মাসে সিডরের আঘাতে উপকূলবর্তী অঞ্চল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলে নির্জন কারাগার থেকেই দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা পাঠান তিনি। ২০০৮ সালের মে মাসে দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

কারাবাসের সেই দুঃসহ দিনগুলোতে কোনো ভয়ভীতি বা প্রলোভন দিয়ে শেখ হাসিনাকে পরাভূত করা যায়নি। বিশেষ কারাগারের সেই নির্জনতায় বাংলার জনগণের ওপর অগাধ আস্থা, বিশ্বাস আর আকাশসম ভালোবাসা নিয়ে তিনি রচনা করেছিলেন দেশ আর মানুষের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যতের পথরেখা— আমাদের ‘দিনবদলের সনদের’ খসড়া

বাংলাদেশে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকলেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আন্দোলন এবং প্রবাসের মাটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্রমাগত আন্দোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জনমত গঠিত হয়। প্রবাসী কমিউনিটি নেতাদের উদ্যোগে ব্রিটিশ এমপি, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট মেম্বারসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের লবিং ও ক্রমাগত চাপের মুখে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের ১১ জুন তাঁর মুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র।

১৯৮১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বহুধা বিভক্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে মাত্র


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত