নজর বিডি
প্রকাশ : রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

পুলিশি হয়রানি ও পুরোনো স্বৈরাচারী চর্চা অব্যাহত রয়েছে: নাহিদ ইসলাম

পুলিশি হয়রানি ও পুরোনো স্বৈরাচারী চর্চা অব্যাহত রয়েছে: নাহিদ ইসলাম

দেশে পুলিশি হয়রানি, পুরোনো স্বৈরাচারী চর্চা এবং বিরোধী মত দমনের অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জনগণের ওপর আবারও জুলুম-নির্যাতন নেমে এসেছে এবং বর্তমান সরকারও পুরোনো স্বৈরশক্তির ধারাবাহিকতাই বজায় রাখছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, "প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের জনসভায় বিরোধী দল কেন প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করছে তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সরকার দুর্নীতি, লুটপাট ও খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধে পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় বিরোধী দলের পক্ষে এই জনবিরোধী বাজেটের প্রশংসা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।" এই বাজেটের কত টাকা জনগণের প্রকৃত উন্নয়নে ব্যয় হবে এবং কত টাকা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে, তা নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে গভীর প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাজেটের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই এবং এটি বাস্তবায়নে সরকারকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের আর্থিক খাতের দুর্নীতি, তদবির ও লুটপাট বন্ধ হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে আবারও একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার নেপথ্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি ও তীব্র লোডশেডিংয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের স্বৈরাচারী সরকারের ভুল নীতিগুলোই বর্তমান সরকার বহাল রেখেছে, যার খেসারত হিসেবে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শাসনব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে পরিচালিত করতে হবে; অন্যথায় দেশে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, "গতকাল চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় জাতীয় দলের এক ক্রিকেটারকে পুলিশ যেভাবে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধর করেছে, এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে দেশে এখনো পুলিশি সংস্কারের চরম অভাব রয়েছে।" দেশে জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চলছে এবং বিরোধী দলকে মুক্তভাবে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যা এবং আটকের ঘটনা বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।" ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছেন; দুই দেশের সীমানার ফয়সালা ১৯৪৭ সালেই সম্পন্ন হয়েছে।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ পরিশেষে বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়নীতি ও জনগণের স্বার্থকে ভিত্তি করেই রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ১১ দলীয় ঐক্য, লালদিঘী ময়দান, বাজেট ২০২৬, পুলিশি হয়রানি, চট্টগ্রাম মহাসমাবেশ, বাংলাদেশ রাজনীতি Nahid Islam, National Citizen Party, 11 Party Alliance, Laldighi Maidan, Budget 2026, Police Harassment, Chittagong Rally, Bangladesh Politics

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


পুলিশি হয়রানি ও পুরোনো স্বৈরাচারী চর্চা অব্যাহত রয়েছে: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

দেশে পুলিশি হয়রানি, পুরোনো স্বৈরাচারী চর্চা এবং বিরোধী মত দমনের অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জনগণের ওপর আবারও জুলুম-নির্যাতন নেমে এসেছে এবং বর্তমান সরকারও পুরোনো স্বৈরশক্তির ধারাবাহিকতাই বজায় রাখছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, "প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের জনসভায় বিরোধী দল কেন প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করছে তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সরকার দুর্নীতি, লুটপাট ও খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধে পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় বিরোধী দলের পক্ষে এই জনবিরোধী বাজেটের প্রশংসা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।" এই বাজেটের কত টাকা জনগণের প্রকৃত উন্নয়নে ব্যয় হবে এবং কত টাকা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে, তা নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে গভীর প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাজেটের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই এবং এটি বাস্তবায়নে সরকারকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের আর্থিক খাতের দুর্নীতি, তদবির ও লুটপাট বন্ধ হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংককে আবারও একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার নেপথ্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি ও তীব্র লোডশেডিংয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের স্বৈরাচারী সরকারের ভুল নীতিগুলোই বর্তমান সরকার বহাল রেখেছে, যার খেসারত হিসেবে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শাসনব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে পরিচালিত করতে হবে; অন্যথায় দেশে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, "গতকাল চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় জাতীয় দলের এক ক্রিকেটারকে পুলিশ যেভাবে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধর করেছে, এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে দেশে এখনো পুলিশি সংস্কারের চরম অভাব রয়েছে।" দেশে জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চলছে এবং বিরোধী দলকে মুক্তভাবে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যা এবং আটকের ঘটনা বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।" ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছেন; দুই দেশের সীমানার ফয়সালা ১৯৪৭ সালেই সম্পন্ন হয়েছে।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ পরিশেষে বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়নীতি ও জনগণের স্বার্থকে ভিত্তি করেই রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত