লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চোর, ছিনতাইকারী, নারী-শিশু ধর্ষণকারী ও অন্যান্য অপরাধীদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ স্বৈরশাসনের প্রভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় নৈতিক অবক্ষয়, বিভাজন এবং সুশাসনের সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন অলি আহমেদ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সহমর্মিতার চর্চা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের উত্তরসূরিরা ধারাবাহিকভাবে সেখানে ইমামতি ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যের সমালোচনার আগে নিজেদের সংশোধন এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। গ্রামাঞ্চলে সন্ধ্যার পর মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
অলি আহমেদ বলেন, "ডাকাতদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও চোর ও ছিনতাইকারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। আওয়ামী ডাকাতরা কলকাতায় পালিয়ে গেছে, কিন্তু চোররা এখানেই রয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।"
সরকারপ্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা অন্য যেকোনো দায়িত্বেই থাকুন না কেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বানও জানান তিনি। একই সাথে তিনি ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
১১ দলীয় জোট সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে এসেছে উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো অপচেষ্টা ও বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানান এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি জানান। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া এদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, সমাবেশে অনুকূল আবহাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রামে আবহাওয়া ভালো থাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নির্বিঘ্নে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরেছেন।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ কর্নেল অলি আহমদ, এলডিপি, ১১ দলীয় ঐক্য, মহাসমাবেশ, চট্টগ্রাম, লালদিঘী ময়দান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জুলাই সনদ, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি Colonel Oli Ahmad, LDP, 11-Party Alliance, Grand Rally, Chittagong, Laldighi Maidan, Law and Order, July Sanad, Anti-State Conspiracy, Liberal Democratic Party

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ও বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চোর, ছিনতাইকারী, নারী-শিশু ধর্ষণকারী ও অন্যান্য অপরাধীদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ স্বৈরশাসনের প্রভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় নৈতিক অবক্ষয়, বিভাজন এবং সুশাসনের সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন অলি আহমেদ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সহমর্মিতার চর্চা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধরদের উত্তরসূরিরা ধারাবাহিকভাবে সেখানে ইমামতি ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যের সমালোচনার আগে নিজেদের সংশোধন এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। গ্রামাঞ্চলে সন্ধ্যার পর মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
অলি আহমেদ বলেন, "ডাকাতদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও চোর ও ছিনতাইকারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। আওয়ামী ডাকাতরা কলকাতায় পালিয়ে গেছে, কিন্তু চোররা এখানেই রয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।"
সরকারপ্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা অন্য যেকোনো দায়িত্বেই থাকুন না কেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বানও জানান তিনি। একই সাথে তিনি ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
১১ দলীয় জোট সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে এসেছে উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো অপচেষ্টা ও বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানান এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি জানান। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া এদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, সমাবেশে অনুকূল আবহাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রামে আবহাওয়া ভালো থাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নির্বিঘ্নে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরেছেন।

আপনার মতামত লিখুন