নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

বাজেটে শ্রমিক বৈষম্যের অবসান চাই : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

বাজেটে শ্রমিক বৈষম্যের অবসান চাই : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশের বাজেটে শ্রমিকরা সর্বদা বৈষম্যের শিকার হন উল্লেখ করে আসন্ন বাজেটে এই বৈষম্যের অবসান দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে সবাই শ্রমিকের অধিকারের কথা বললেও অতীতের সব সরকারই তাদের অধিকার হরণ করেছে, যার ফলে বিগত ৫৪টি বাজেটেই শ্রমিকদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৮ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ‘শ্রমিকের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় সভায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাজেট হচ্ছে প্রশাসক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যকার একটি বার্ষিক অর্থনৈতিক চুক্তি। আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। 

দেশের অর্থনীতি সচল রাখার মূল শক্তি শ্রমিক সমাজ হলেও বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি বা শ্রমজীবী মানুষের মতামত নেওয়া হয় না এবং শ্রমিক কল্যাণ খাতে বরাদ্দও অত্যন্ত কম রাখা হয়। বাজেট যদি একপক্ষীয় না হয়ে শ্রমিক ও প্রশাসন উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ করে প্রণয়ন করা হতো, তবে তা দেশের জন্য আরও কল্যাণকর হতো।

ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী ও হাদিস উল্লেখ করে বলেন, ইসলাম শ্রম ও শ্রমিককে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকের পরিশ্রমে কালো হয়ে যাওয়া হাত চুম্বন করে বলেছেন, ‘কাজের হাতই শ্রেষ্ঠ হাত।’ শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশ ৫৪টি বাজেট দেখেছে, এবারের বাজেটটি হবে ৫৫তম। সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে আজও তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ৫৪ বছরেও বাজেটে শ্রমিকদের জন্য ১ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়নি। 

২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দেওয়া ১৪৯ জন শ্রমিকের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই বৈষম্য এখনও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি নতুন সরকারের কাছে বৈষম্যহীন বাজেট প্রত্যাশা করে বলেন, গত পাঁচ বছরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে, অথচ দেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন শ্রমিক যুক্ত হচ্ছে। 

এই বাস্তবতায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী জাতীয় বাজেটে অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় দেশের সব শ্রমিক সংগঠনকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সাড়ে ৭ কোটি শ্রমিকের খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও জীবনমান উন্নয়নের ন্যায্য অধিকার আদায় করা হবে বলে হুশিয়ারি দেন।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় গার্মেন্টস ঐক্য জোট, প্রগতিশীল নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনসহ দেশের বিভিন্ন খাতের শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ জামায়াতে ইসলামী, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, জাতীয় বাজেট, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, শ্রমিক বৈষম্য, প্রাক-বাজেট আলোচনা, জাতীয় প্রেসক্লাব, জাতীয় সংবাদ Jamaat-e-Islami, Prof Mujibur Rahman, National budget, Sramik Kalyan Federation, Labor discrimination, Pre-budget meeting, National Press Club, National news

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


বাজেটে শ্রমিক বৈষম্যের অবসান চাই : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের বাজেটে শ্রমিকরা সর্বদা বৈষম্যের শিকার হন উল্লেখ করে আসন্ন বাজেটে এই বৈষম্যের অবসান দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে সবাই শ্রমিকের অধিকারের কথা বললেও অতীতের সব সরকারই তাদের অধিকার হরণ করেছে, যার ফলে বিগত ৫৪টি বাজেটেই শ্রমিকদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৮ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ‘শ্রমিকের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় সভায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাজেট হচ্ছে প্রশাসক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যকার একটি বার্ষিক অর্থনৈতিক চুক্তি। আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। 

দেশের অর্থনীতি সচল রাখার মূল শক্তি শ্রমিক সমাজ হলেও বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি বা শ্রমজীবী মানুষের মতামত নেওয়া হয় না এবং শ্রমিক কল্যাণ খাতে বরাদ্দও অত্যন্ত কম রাখা হয়। বাজেট যদি একপক্ষীয় না হয়ে শ্রমিক ও প্রশাসন উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ করে প্রণয়ন করা হতো, তবে তা দেশের জন্য আরও কল্যাণকর হতো।

ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী ও হাদিস উল্লেখ করে বলেন, ইসলাম শ্রম ও শ্রমিককে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকের পরিশ্রমে কালো হয়ে যাওয়া হাত চুম্বন করে বলেছেন, ‘কাজের হাতই শ্রেষ্ঠ হাত।’ শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশ ৫৪টি বাজেট দেখেছে, এবারের বাজেটটি হবে ৫৫তম। সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে আজও তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। ৫৪ বছরেও বাজেটে শ্রমিকদের জন্য ১ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়নি। 

২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দেওয়া ১৪৯ জন শ্রমিকের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই বৈষম্য এখনও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি নতুন সরকারের কাছে বৈষম্যহীন বাজেট প্রত্যাশা করে বলেন, গত পাঁচ বছরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে, অথচ দেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন শ্রমিক যুক্ত হচ্ছে। 

এই বাস্তবতায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী জাতীয় বাজেটে অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় দেশের সব শ্রমিক সংগঠনকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সাড়ে ৭ কোটি শ্রমিকের খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও জীবনমান উন্নয়নের ন্যায্য অধিকার আদায় করা হবে বলে হুশিয়ারি দেন।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় গার্মেন্টস ঐক্য জোট, প্রগতিশীল নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনসহ দেশের বিভিন্ন খাতের শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত