গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাসরিন নাহার শীলার পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবের বিশেষ অনুমতিক্রমে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯, ৫০ ও ৫১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে এনসিপির এই মনোনয়ন প্রত্যাশীর পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে অন্যতম—শহীদ জাবির ইব্রাহিমের পিতা কবির হোসেন, শহীদ তানভিরের মাতা এবং শহীদ ফাহামিনের মাতা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি মহানগর উত্তরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব ওয়াহিদুজ্জামান সুমন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জামাল আবির এবং মহানগর উত্তর এনসিপির সদস্য আনিছুর রহমান। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীসহ দক্ষিণখান থানা এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন। শহীদ পরিবারের অভিভাবকেরা তাদের বক্তব্যে আক্ষেপ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুবসমাজ রক্ত দিয়েছে, তা পূরণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আগামীতে নির্বাচিত কাউন্সিলররা কোনো ধরনের অন্যায়ের সাথে আপস না করে জনমানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নাসরিন নাহার শীলা তার বক্তব্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:
"জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যদি আমাকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯, ৫০ ও ৫১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করে, তবে আমি নির্বাচিত হয়ে এই এলাকাকে একটি আদর্শ ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব। আমার মূল লক্ষ্য হবে—একটি দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করা, এলাকার তীব্র যানজট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করা, সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজীকরণ এবং সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে যেকোনো ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটানো।"
তিনি আরও যোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধারণ করে সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি আমৃত্যু কাজ করে যেতে চান। এই জনকল্যাণমূলক যাত্রায় তিনি দল ও এলাকাবাসীর সর্বাত্মক সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
অর্থবহ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক নগরী গড়ে তোলাই হোক আগামী দিনের স্থানীয় রাজনীতির মূল লক্ষ্য—এমনটাই প্রত্যাশা উত্তর সিটির এই তিন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। নাসরিন নাহার শীলার এই পরিচিতি ও মতবিনিময় সভাটি কেবলই রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল স্থানীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের এক উন্মুক্ত মঞ্চে।
রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন, তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতৃত্বের হাত ধরেই আগামী দিনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই অঞ্চলটি একটি বৈষম্যহীন ও নাগরিকবান্ধব মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হতে পারে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ নাসরিন নাহার শীলা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপি, দক্ষিণখান, ঢাকা সংবাদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ২০২৬, গণঅভ্যুত্থান, শহীদ পরিবার Nasrin Nahar Shila, DNCC, DNCC Election 2026, National Nagorik Party, NCP, Ward 49 50 51, Dhaka North City Corporation, Southkhon, Dhaka News, Local Government Election Bangladesh

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাসরিন নাহার শীলার পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবের বিশেষ অনুমতিক্রমে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯, ৫০ ও ৫১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে এনসিপির এই মনোনয়ন প্রত্যাশীর পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে অন্যতম—শহীদ জাবির ইব্রাহিমের পিতা কবির হোসেন, শহীদ তানভিরের মাতা এবং শহীদ ফাহামিনের মাতা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি মহানগর উত্তরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব ওয়াহিদুজ্জামান সুমন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জামাল আবির এবং মহানগর উত্তর এনসিপির সদস্য আনিছুর রহমান। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীসহ দক্ষিণখান থানা এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন। শহীদ পরিবারের অভিভাবকেরা তাদের বক্তব্যে আক্ষেপ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যুবসমাজ রক্ত দিয়েছে, তা পূরণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আগামীতে নির্বাচিত কাউন্সিলররা কোনো ধরনের অন্যায়ের সাথে আপস না করে জনমানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নাসরিন নাহার শীলা তার বক্তব্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:
"জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যদি আমাকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯, ৫০ ও ৫১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করে, তবে আমি নির্বাচিত হয়ে এই এলাকাকে একটি আদর্শ ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব। আমার মূল লক্ষ্য হবে—একটি দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করা, এলাকার তীব্র যানজট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করা, সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজীকরণ এবং সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে যেকোনো ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটানো।"
তিনি আরও যোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধারণ করে সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি আমৃত্যু কাজ করে যেতে চান। এই জনকল্যাণমূলক যাত্রায় তিনি দল ও এলাকাবাসীর সর্বাত্মক সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
অর্থবহ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক নগরী গড়ে তোলাই হোক আগামী দিনের স্থানীয় রাজনীতির মূল লক্ষ্য—এমনটাই প্রত্যাশা উত্তর সিটির এই তিন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। নাসরিন নাহার শীলার এই পরিচিতি ও মতবিনিময় সভাটি কেবলই রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল স্থানীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের এক উন্মুক্ত মঞ্চে।
রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন, তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতৃত্বের হাত ধরেই আগামী দিনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই অঞ্চলটি একটি বৈষম্যহীন ও নাগরিকবান্ধব মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন