নজর বিডি

ভাটারা থানা পুলিশের ‘গড়িমসি ও অবহেলায়’ প্রাণ গেল চালক সবুজের!

ভাটারা থানা পুলিশের ‘গড়িমসি ও অবহেলায়’ প্রাণ গেল চালক সবুজের!

প্রশাসনের চরম দায়িত্বহীনতা আর উদাসীনতার এক হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে। পুলিশের অসহযোগিতা ও আইনি তামাশার খেসারত দিতে হলো গাড়িচালক সবুজকে (৩৮)। মুক্তিপণ আদায়কারী ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে তাকে। 

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের হীন মানসিকতা ও কর্তব্যে অবহেলার কারণেই একটি নিরীহ পরিবার আজ চিরতরে সর্বস্বান্ত।

নিহত সবুজের স্ত্রী ফারজানা আক্তারের অভিযোগ, গত ৩০ মে রাত ১০টার দিকে 'ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১৬৬৮' নম্বরের একটি গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে সবুজের আর খোঁজ মেলেনি। ঘটনার পরপরই অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

স্বামীর উদ্ধারের মরিয়া আকুতি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ৩১ মে ভাটারা থানার দ্বারস্থ হয়। অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে অপহরণ ও মুক্তিপণের বিষয় উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও, পুলিশ মামলা বা এফআইআর (FIR) গ্রহণ না করে দায়সারাভাবে শুধু একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) গ্রহণ করেই পরিবারটিকে বিদায় করে দেয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ধারা ৪(১)(চ) অনুযায়ী, অপহরণ একটি ‘কগনিজেবল অফেন্স’ বা আমলযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, এমন অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ আদালতের অনুমতি ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও অভিযান শুরু করতে বাধ্য।

আইনজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, ভাটারা থানা পুলিশ আইনের এই ধারা উপেক্ষা করে যে গাফিলতি দেখিয়েছে, তা কেবল পেশাদারিত্বের অভাব নয়, বরং চরম অমানবিকতা। পুলিশের সেই সময়কার ন্যূনতম তৎপরতা হয়তো সবুজকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারতো।

ভাটারা থানার অবহেলা আর দীর্ঘসূত্রতার এক পর্যায়ে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিত করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পেয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত তুরাগ নদের রাজাবাড়ী এলাকার ১৮১ নম্বর পিলারের পাশ থেকে সবুজের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বলছে, হত্যার পর অপরাধের তথ্য গোপন করতে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে শোকে স্তব্ধ পরিবারটি পুলিশের এই চরম অবহেলার বিচার চাইছে। নিহত সবুজের স্ত্রী ফারজানা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “পুলিশ সেদিনই মামলা নিয়ে যদি দ্রুত ব্যবস্থা নিতো, তবে হয়তো আমার স্বামী আজ বেঁচে থাকতো।”

রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?—এমন প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল। তারা ভাটারা থানার সেই সময়কার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ভাটারা থানা, পুলিশি অবহেলা, চালক সবুজ হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও খুন, তুরাগ নদ, ডিএমপি, ঢাকা নিউজ, ক্রাইম নিউজ Vatara Thana, Police Negligence, Driver Sobuj Murder, Kidnapping and Murder, Turag River, DMP, Dhaka Crime News

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ভাটারা থানা পুলিশের ‘গড়িমসি ও অবহেলায়’ প্রাণ গেল চালক সবুজের!

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

প্রশাসনের চরম দায়িত্বহীনতা আর উদাসীনতার এক হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে। পুলিশের অসহযোগিতা ও আইনি তামাশার খেসারত দিতে হলো গাড়িচালক সবুজকে (৩৮)। মুক্তিপণ আদায়কারী ঘাতক চক্রের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে তাকে। 

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের হীন মানসিকতা ও কর্তব্যে অবহেলার কারণেই একটি নিরীহ পরিবার আজ চিরতরে সর্বস্বান্ত।

নিহত সবুজের স্ত্রী ফারজানা আক্তারের অভিযোগ, গত ৩০ মে রাত ১০টার দিকে 'ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১৬৬৮' নম্বরের একটি গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে সবুজের আর খোঁজ মেলেনি। ঘটনার পরপরই অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

স্বামীর উদ্ধারের মরিয়া আকুতি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ৩১ মে ভাটারা থানার দ্বারস্থ হয়। অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে অপহরণ ও মুক্তিপণের বিষয় উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও, পুলিশ মামলা বা এফআইআর (FIR) গ্রহণ না করে দায়সারাভাবে শুধু একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) গ্রহণ করেই পরিবারটিকে বিদায় করে দেয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ধারা ৪(১)(চ) অনুযায়ী, অপহরণ একটি ‘কগনিজেবল অফেন্স’ বা আমলযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, এমন অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ আদালতের অনুমতি ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও অভিযান শুরু করতে বাধ্য।

আইনজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, ভাটারা থানা পুলিশ আইনের এই ধারা উপেক্ষা করে যে গাফিলতি দেখিয়েছে, তা কেবল পেশাদারিত্বের অভাব নয়, বরং চরম অমানবিকতা। পুলিশের সেই সময়কার ন্যূনতম তৎপরতা হয়তো সবুজকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারতো।

ভাটারা থানার অবহেলা আর দীর্ঘসূত্রতার এক পর্যায়ে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিত করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পেয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত তুরাগ নদের রাজাবাড়ী এলাকার ১৮১ নম্বর পিলারের পাশ থেকে সবুজের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বলছে, হত্যার পর অপরাধের তথ্য গোপন করতে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে শোকে স্তব্ধ পরিবারটি পুলিশের এই চরম অবহেলার বিচার চাইছে। নিহত সবুজের স্ত্রী ফারজানা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “পুলিশ সেদিনই মামলা নিয়ে যদি দ্রুত ব্যবস্থা নিতো, তবে হয়তো আমার স্বামী আজ বেঁচে থাকতো।”

রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?—এমন প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল। তারা ভাটারা থানার সেই সময়কার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত