ভারতের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কাছে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কেন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা অবহিত করছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, "সরকার কি কানে তুলো গুঁজে রেখেছে? নাকি ভাসুরের নাম নিতে ভয় পায়। বর্ডার ইস্যুতে সরকার অভিযোগ করলে কার বিরুদ্ধে করবে? এখানেই তো নাম ধরতে ভয়। অথচ জাতিসংঘের মানবাধিকার আইন অনুযায়ীও কিন্তু পুশইন সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ।"
গতকাল বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিনের চলমান পরিস্থিতি হলেও বর্তমান সরকারের আমলে এর যে চিত্র, তা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তিনি উল্লেখ করেন, বিজিবি ইতোমধ্যে ২৬টি জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রতিবেশীসুলভ আচরণ না করে অন্যায় এবং বাড়াবাড়িমূলক আচরণ করছে। কোনো ভিনদেশি নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করার নিয়ম রয়েছে, কিন্তু ভারত সে পথে হাঁটছে না। ফেলানি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পুশইনের ঘটনা ঘটলেও ভারত দাবি করছে তাদের ডিকশনারিতে নাকি পুশইন বলে কিছু নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা আযাদ বলেন, "সীমান্তে অপরাধজনিত কারণে কারও ওপর হামলা বা হত্যাকাণ্ড ঘটলেও নাকি সেটাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা যাবে না! মন্ত্রীদের অনুরোধ করব, দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কথা বলার সময় মনে রাখবেন আপনারা বাংলাদেশের ক্যাবিনেট মিনিস্টার। কিন্তু ওনাদের বয়ান হয়ে গেছে ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো।"
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে সরাসরি গুলি করে হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম আঘাত। দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো মূল্যে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী সীমান্তবর্তী জেলার বাসিন্দাদের সীমান্তে একটি 'মানব প্রাচীর' তৈরির আহ্বান জানান, যাতে ওপার থেকে কোনো সন্ত্রাসী বা চোরাকারবারি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে না পারে।
তিনি বলেন, "নতজানু নীতি থেকে সরে সরকারকে সঠিক পররাষ্ট্রনীতির উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত চাওয়াও প্রয়োজন।" এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়—এমন বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় ঐক্য, সীমান্ত হত্যা, পুশইন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত, নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী Hamidur Rahman Azad, Jamaat e Islami, 11 Party Alliance, Border Killing, Push in, Home Minister, Bangladesh India Border, Nasir Uddin Patwari

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
ভারতের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কাছে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কেন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা অবহিত করছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, "সরকার কি কানে তুলো গুঁজে রেখেছে? নাকি ভাসুরের নাম নিতে ভয় পায়। বর্ডার ইস্যুতে সরকার অভিযোগ করলে কার বিরুদ্ধে করবে? এখানেই তো নাম ধরতে ভয়। অথচ জাতিসংঘের মানবাধিকার আইন অনুযায়ীও কিন্তু পুশইন সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ।"
গতকাল বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিনের চলমান পরিস্থিতি হলেও বর্তমান সরকারের আমলে এর যে চিত্র, তা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তিনি উল্লেখ করেন, বিজিবি ইতোমধ্যে ২৬টি জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রতিবেশীসুলভ আচরণ না করে অন্যায় এবং বাড়াবাড়িমূলক আচরণ করছে। কোনো ভিনদেশি নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করার নিয়ম রয়েছে, কিন্তু ভারত সে পথে হাঁটছে না। ফেলানি হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পুশইনের ঘটনা ঘটলেও ভারত দাবি করছে তাদের ডিকশনারিতে নাকি পুশইন বলে কিছু নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা আযাদ বলেন, "সীমান্তে অপরাধজনিত কারণে কারও ওপর হামলা বা হত্যাকাণ্ড ঘটলেও নাকি সেটাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা যাবে না! মন্ত্রীদের অনুরোধ করব, দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কথা বলার সময় মনে রাখবেন আপনারা বাংলাদেশের ক্যাবিনেট মিনিস্টার। কিন্তু ওনাদের বয়ান হয়ে গেছে ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো।"
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে সরাসরি গুলি করে হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম আঘাত। দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো মূল্যে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী সীমান্তবর্তী জেলার বাসিন্দাদের সীমান্তে একটি 'মানব প্রাচীর' তৈরির আহ্বান জানান, যাতে ওপার থেকে কোনো সন্ত্রাসী বা চোরাকারবারি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে না পারে।
তিনি বলেন, "নতজানু নীতি থেকে সরে সরকারকে সঠিক পররাষ্ট্রনীতির উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত চাওয়াও প্রয়োজন।" এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়—এমন বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

আপনার মতামত লিখুন