ঘোষিত নতুন (প্রস্তাবিত) বাজেটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কোনো কার্যকর রূপরেখা সরকারের কাছে নেই।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে কখনোই এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানের ভঙ্গুর ও দুর্বল কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তিনি যোগ করেন, "আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষণ নেই।"
বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, "সরকার বাজেটে কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। বেশ কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ; তবে দিনশেষে তা কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নযোগ্য হবে—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে।"
সম্প্রতি দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, "এত কম সময়ের ব্যবধানে দেশের ইতিহাসে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এর লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি।"
বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তীব্রভাবে তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, "সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই বিশাল বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা এখানে নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া।"
তিনি সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, "এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা বঞ্চিত হচ্ছেন—তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে আর্থিক খাতের মূল ক্ষত—দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।"
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
ঘোষিত নতুন (প্রস্তাবিত) বাজেটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কোনো কার্যকর রূপরেখা সরকারের কাছে নেই।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে কখনোই এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানের ভঙ্গুর ও দুর্বল কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তিনি যোগ করেন, "আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষণ নেই।"
বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, "সরকার বাজেটে কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। বেশ কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ; তবে দিনশেষে তা কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নযোগ্য হবে—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে।"
সম্প্রতি দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, "এত কম সময়ের ব্যবধানে দেশের ইতিহাসে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এর লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি।"
বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তীব্রভাবে তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, "সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই বিশাল বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা এখানে নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া।"
তিনি সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, "এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা বঞ্চিত হচ্ছেন—তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে আর্থিক খাতের মূল ক্ষত—দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।"

আপনার মতামত লিখুন